২০, জানুয়ারী, ২০২২, বৃহস্পতিবার

অডিও রেকর্ড নিজের বলে স্বীকার করেছেন মেয়র আব্বাস

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণ নিয়ে কটূক্তি এবং তা প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়ায় রাজশাহীর কাটাখালি পৌরসভার সেই আলোচিত মেয়র আব্বাস আলী অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন। তার বক্তব্যের যে অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে সেটি তার বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

রাজধানীর হোটেল রাজমনি ঈশা খাঁ থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা একটি মামলায় আব্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান।

র‌্যাব জানায়, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির ঘটনায় মেয়রের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে। গ্রেফতার এড়াতে দেশ ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন আব্বাস। সেই উদ্দেশ্যে ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। তার কাছ থেকে পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার সকালে তাকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানান র‌্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজশাহী মহানগরীর প্রবেশদ্বারে জাতির পিতার ম্যুরাল স্থাপন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়। সেই মামলায় গ্রেফতার এড়াতে গত ২৩ নভেম্বর থেকে ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি কোনো ডিজিটাল ডিভাইস বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন না। তাই তিনি ধরা পড়ছিলেন না।

র‌্যাবের গোয়েন্দা দল তাকে ধরতে কাজ করে যাচ্ছিল উল্লেখ করে খন্দকার আল মাঈন বলেন, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে আব্বাস আলী রাজমনি ঈশা খাঁ হোটেলে উঠেন। খবর পেয়ে র‌্যাব-৩ এর গোয়েন্দা দল তাকে নজরদারিতে রাখে। এরপর বুধবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আব্বাস আলী প্রাথমিকভাবে ভাইরাল হওয়া অডিও রেকর্ডটি তার বলে স্বীকার করেছেন। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে তিনি এ ধরনের কটূক্তি করেছেন এবং কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তা করেছেন কিনা তা এখনো জানা যায়নি।

এদিকে আব্বাসের গ্রেফতারের খবরে এলাকাবাসী উল্লাস প্রকাশ করেছেন। এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া মেয়র পদ থেকে দ্রুত বরখাস্তের দাবি করেছেন কাটাখালি পৌরসভা ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা।

এর আগে ২৪ নভেম্বর বিকালে দলীয় কার্যালয়ে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি বৈঠকে আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া ২৬ নভেম্বর মেয়র আব্বাসকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণকে কেন্দ্র করে কটূক্তি এবং সেটি নির্মাণের প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে সম্প্রতি বক্তব্য দেন কাটাখালি পৌরসভায় নৌকা প্রতীকে দুবারের নির্বাচিত মেয়র আব্বাস আলী। এরপর গত ২৩ নভেম্বর থেকে তার অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ২৪ নভেম্বর রাতে রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া, বোয়ালিয়া ও চন্দ্রিমা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয়।

সর্বশেষ নিউজ