১, ডিসেম্বর, ২০২১, বুধবার

অফিস-গণপরিবহন সব বন্ধ, খোলা থাকবে শিল্প কারখানা

১৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। সেখানে বলা হয়েছে, ১৪ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত কঠোর লকডাউন চলাকালে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিস ও গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পোশালশিল্প কারখানা খোলা রাখা হবে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গেল ২৯ মার্চ সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা ১৮ দফা জরুরি নির্দেশনার ১৪ নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস প্রতিষ্ঠান শিল্প কারখানাসমূহ ৫০ ভাগ জনবল দ্বারা পরিচালনা করতে হবে। গর্ভবতী/অসুস্থ/বয়স ৫৫ ঊর্ধ্ব কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের বাড়িতে অবস্থান করে কর্মসম্পাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ওই নির্দেশনা জারির একদিন পরই ৩০ মার্চ ৫০ ভাগ নয়, শতভাগ জনবল নিয়েই প্রতিষ্ঠান চালানোর কথা জানায় তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। বাস্তবতায়ও তেমনই দেখা যায়। গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকার সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করলেও পোশাক কারখানা খোলা রাখার অনুমতি দেয়। অর্থনীতির চাঙ্গা রাখতে সঙ্গে অন্যান্য উৎপাদনমুখী অন্যান্য শিল্প কারখানাও চালু রাখা যাবে বলে জানায়।

এবার ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সর্বাত্মক লকডাউনের আগে পোশাক কারখানা খোলা রাখার বিষয়ে গতকাল রবিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ নেতারা।

বৈঠক শেষে বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্মক লকডাউন হলেও শিল্প কারখানা চলবে। লকডাউনে শিল্প কারখানা ছাড়া সব বন্ধ থাকবে। মানুষের চলাচলও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’

পোশাকশিল্প মালিকদের বক্তব্য হচ্ছে, লকডাউনে সব বন্ধ রাখলেও পোশাক কারখানা খোলা রাখতে হবে। অন্যথায় বিপুল পরিমাণ ক্রয়াদেশ হারাবে বাংলাদেশ। তাদের যুক্তি, কারখানা বন্ধ করে শ্রমিকদের ছুটি দিলে তারা বাড়ি ফিরে যাবে। তাতে করে করোনার সংক্রমণ আরও বহুগুণে বেড়ে যেতে পারে।

সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা ১৩ দফা বিধিনিষেধের ৪ নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান থেকে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়া নিশ্চিত করতে হবে।

সর্বশেষ নিউজ