৫, আগস্ট, ২০২১, বৃহস্পতিবার

‘আপত্তিকর ছবির ফাঁদে ফেলে’ ২৮ জনকে বিয়ে করেন মডেল রোমানা!

ফেসবুকে প্রবাসীদের টার্গেট করে তাদেরকে প্রেমের জালে ফাঁসাতেন মডেল রোমানা। কখনও আর্থিক সংকটসহ নানা কারণ দেখিয়ে টাকা নিতেন। পরিস্থিতি সুবিধাজনক হলে করতেন বিয়েও। তারপর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিতেন আরও টাকা, জমি-ফ্ল্যাট।

পুলিশ বলছে, এভাবে ২৮ জনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন রোমানা। তার পরিবারের সদস্যরাও এই কাজে তাকে সহায়তা করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ কাজে জড়িত থাকার কথা স্বীকারও করেছেন তারা।

রোমানা ইসলাম স্বর্ণা নিজেকে মডেল ও অভিনেত্রী পরিচয়‌ দিয়ে ফেসবুকে ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্ট খুলতেন। তারপর সেসব অ্যাকাউন্টের প্রোফাইলে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করতেন তিনি। পরে ধনী প্রবাসীদের টার্গেট করে তাদেরকে প্রেমের জালে ফাঁসাতেন। তারপরই বিবাহ বিচ্ছেদের মাধ্যমে স্বামীহীন সংসারে আর্থিক অনটনের কথা বলে হাতিয়ে নিতেন টাকা। এসব করতে গিয়ে ২৮টি বিয়েও করেছেন তিনি।

সম্প্রতি একইভাবে সৌদি প্রবাসী কামরুল ইসলাম জুয়েলের কাছ থেকে এক বছরে বিভিন্ন সময়ে নেন আড়াই কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে রোমানার বিরুদ্ধে।

কামরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, সে আমার সাথে সম্পর্ক তৈরি করে লালমাটিয়ায় ফ্ল্যাট কেনার নাম করে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা নেয়। এরপর আমি দেশে ফিরলে আমাকে তার বাসায় ডেকে কিছু একটা খাইয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর আমার খারাপ ছবি তুলে নেয় ও আমার থেকে স্ট্যাম্পে সাইন নিয়ে নেয়। এভাবেই সে আমাকে জোর করে বিয়ে করে। পরে কিছুদিন তার বাসায় আটকেও রাখে সে। এরইমধ্যে সুযোগ বুঝে আমাদের অন্তরঙ্গ নানা মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও কৌশলে ধারণ করে রোমানা। পরে সেসব ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে স্ট্যাম্পে সাক্ষর নেওয়ার মাধ্যমে আমার জমি হাতিয়ে নেয় সে। পরে হঠাৎ একদিন রোমানা আমাকে ডিভোর্স দেয়।

পুলিশ বলছে, এই পরিবারের প্রতিটি সদস্যই বিপরীত লিঙ্গের সাথে একই প্রক্রিয়ার প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কের অভিনয় করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ বলেন, রোমানা, তার মা, তার ভাই ও ভাইয়ের বউ ও রোমানার ছেলেসহ পরিবারটির সবাই এই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তিনি বিদেশ থেকে আসার পর বাসায় নিয়ে উলঙ্গ করে তার ছবি তোলে তারা। এরপর টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে সেই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এই ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। পরে ওই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

সর্বশেষ নিউজ