২৪, জুন, ২০২১, বৃহস্পতিবার

আমার আদর্শ বঙ্গবন্ধু: মমতা

আমার আদর্শ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের স্থপতির মুখের জয় বাংলা স্লোগানও এখন আমার মুখের স্লোগান। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এক অনুষ্ঠানে রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) এ কথা বলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে কলকাতায় বির্তক রয়েছে- ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের জয় বাংলা স্লোগান কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলের স্লোগান হয় এমন প্রশ্ন বহু দিন ধরেই উড়ছে রাজনৈতিক মহলে।

কিন্তু আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিলেন, শুধু জয় বাংলা স্লোগানই নয় জয় বাংলার স্লোগানের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও তার আদর্শ।

গত রোববার বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিবিআইয়ের নোটিশ ঝোলানো হয়; কয়লা পাচারের সঙ্গে ভাইপোর স্ত্রী নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও যোগ রয়েছে- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

সিবিআইয়ের নোটিশ ঝোলানোর পরই হুঙ্কার দিয়ে উঠেন মমতা- বলেন, আমাকে ভয় দেখিয়ে চমকিয়ে জেলে পাঠিয়েও লাভ নেই। আমি বঙ্গবন্ধুর মতো সেখান থেকেই ডাক দেব, বলব জয় বাংলা, জয় বাংলা, জয় বাংলা।

এমন বক্তব্য দিয়ে বিজেপির তোপের মুখে পড়েছেন মমতা।

বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য প্রশ্ন তুলেছেন, কেন পিসি (মমতা) নেতাজী, ঋষি অরবিন্দ, রাসবিহারী বোস বা ক্ষুদিরামের মতো লড়তে চাইছেন না? শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ তৈরি করেছেন। তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি চাইছেন?

অমিত মালব্য কটাক্ষ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে কি তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুসলিম ভোটব্যাংককে কোনও বার্তা দিতে চাইছেন?

রোববারের ওই অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বলেন, আমাদের রাজ্যের নাম বাংলা করার জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। দেখতে দেখতে চার বছর হয়ে গেলো। এখনও কিছুই হলো না।

এরপরেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমাদের রাজ্যের নাম বাংলা হবে না কেন? পাশে বাংলাদেশ আছে বলে? তাহলে তো পাকিস্তানেও পাঞ্জাব আছে। তবে এদেশে পাঞ্জাব নাম হলো কি করে? এরপরেই তিনি বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, ওদের উচ্চ মধ্য থাকতে পারে, কিন্ত শুধুমাত্র বাংলার বেলাতেই সমস্যা।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বঙ্গবন্ধু বক্তব্যের বিষয়টিকে যেভাবে অমিত মালব্য উপস্থাপন করেছেন তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিকমহল। যা ভোটের বাজারে মেরুকরনের রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- পশ্চিমবঙ্গের একঝাঁক কবি-সাহিত্যিক বইপ্রেমী মানুষ। ওই অনুষ্ঠান থেকেই কলকাতার একুশে বই উৎসবের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে ব্যতিক্রমধর্মী এক সংগীতানুষ্ঠানের অংশ নেন কলকাতায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের উপরাষ্ট্রদূত ও কনসাল জেনারেলরা। আগত অতিথিরা নিজেদের মাতৃভাষাতেই সংগীত পরিবেশন করেন।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন বীর শহীদ-রফিক-সালাম-বরকত-জব্বাররা। সেই ভাষা আন্দোলনের বহু বছর পর বিশ্বব্যাপী এ দিবসটি স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে।

বিশেষ এই দিনটিতে কলকাতার বঙ্গবন্ধু সরণির বাংলাদেশ উপদূতাবাসের আয়োজনে একুশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে এবার আমন্ত্রণ জানানো হয় জাপান, রাশিয়া, ফ্রান্সের উপরাষ্ট্রদূত-কনসল জেনারেলদের। ডাকা হয় সেসব দেশের শিল্পীদেরও। বাংলা ভাষার পাশাপাশি এদিন সন্ধ্যায় অন্য ভাষার সংগীত পরিবেশন শুনে মুগ্ধ দর্শক সারিতে বসা কলকাতার অতিথিরা।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলকাতার মেয়র ও রাজ্যসরকারের নগর উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার তৌফিক হাসান।

সর্বশেষ নিউজ