১৭, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

আরেক জাহালম কাণ্ড: বিনাদোষে ৪ মাস জেল খাটলেন যশোরের মিন্টু

যশোরে বিনা অপরাধে চার মাস হাজতবাসের পর আদালত থেকে মুক্তি পেয়েছেন মিন্টু মোল্যা নামে এক দিনমজুর। একটি ঋণখেলাপি মামলায় আশরাফ আলীর স্থলে পুলিশ মিন্টুকে আটক করে জেলহাজতে পাঠায়।

মিন্টু মোল্যা বেনাপোলের দিঘিরপাড় এলাকার মৃত মোহর আলী মোল্যার ছেলে। আর সাজাপ্রাপ্ত আশরাফ আলী বেনাপোলের দিঘিরপাড়া এলাকার মৃত মোহর আলীর ছেলে।

পিতার নামে মিল থাকায় আশরাফ আলীর স্থলে মিন্টুকে গতবছরের ১৬ নভেম্বর আটক করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। মিন্টুর অভিযোগের ভিত্তিতে চার মাস পর বিষয়টি আদালতের নজরে আসায় অবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি মুক্তি পেলেন। ভুক্তভোগী মিন্টু মোল্যা পেশায় কখনো দিনমজুর, কখনো ভ্যানচালক।

মিন্টু মোল্যার অভিযোগ, গত বছরের ১৬ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে তার বাড়িতে হাজির হন বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম ও একই এলাকার চৌকিদার কালা কবির। তারা দিঘিরপাড়া এলাকার মৃত মোহর আলীর ছেলে আশরাফ আলীর নামে আদালতের দেয়া এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখান। পিতার নামে মিল থাকায় ওই কপি নিয়ে তাকে আটকের চেষ্টা করেন। এ সময় মিন্টু নিজের পরিচয় দিয়ে তিনি আশরাফ আলী নন বলে দাবি করেন। কিন্তু কোনো কথা শুনতে রাজি হননি সেই দারোগা ও চৌকিদার।

তিনি আরও জানান, রাতেই তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন সকালে পরিবারের লোকজন জন্মনিবন্ধন সনদের কপি নিয়ে থানায় গেলেও তাকে পুলিশের হাত থেকে ছাড়াতে পারেননি। ফলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। পরে কারাগারের মধ্যে দরবার ফাইলে অভিযোগ করেন মিন্টু। গত শনিবার (৬ মার্চ) যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে আসেন আইন মন্ত্রণালয়ের দু’জন উপ-সচিব। এ সময় মিন্টু তাদের কাছেও অভিযোগ করেন।

মিন্টু মোল্যা আরও জানান, বিষয়টি আমলে নিয়ে তারা বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্ল্যাস্ট) প্যারালিগ্যাল অফিসার অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌস সূচনাকে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বলেন। এরপর লিগ্যাল এইডের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে তারা জানতে পারে আশরাফ আলী অন্য এক ব্যক্তি। ফলে এদিনই যশোরের যুগ্ম দায়রা জজ ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক মিন্টুকে খালাস দেন।

মিন্টুর স্ত্রী ফাহিমা বেগম জানান, তার স্বামীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নাই। দুটি ছেলে নিয়ে কোনোমতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান তার স্বামী মিন্টু। প্রায় চারমাস তার স্বামী জেলখানায় থাকায় অর্ধাহারে অনাহারে তাদের দিন পার করতে হয়েছে।

ব্ল্যাস্ট যশোরের কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট মোস্তফা হুমায়ুন কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটক মিন্টু সাজাপ্রাপ্ত আশরাফ আলী নন। সেটি নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত তাকে মুক্তি দিয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ