১৭, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

আরো ‘স্বাধীনতা’ পেলেন সৌদি নারীরা

ইসলাম ধর্মের অনুশাসন মেনে চলা সৌদি আরবে নারীদের ওপর থেকে অনেক বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হয়েছে। তার পরেও অভিভাবকদের অনুমতি ছাড়া তাদের একা বসবাসের সুযোগ ছিল না এতদিন। এ সংক্রান্ত ‘ল অব প্রসিডিউর’র ১৬৯ অনুচ্ছেদের প্যারাগ্রাফ ‘খ’ বাতিল করেছে দেশটি।

সৌদি বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের এ পদক্ষেপকে নারীদের বেলায় ‘যুগান্তকারী’ হিসেবে দেখছে পশ্চিমা বিশ্ব। কেননা, এর ফলে অবিবাহিতা, বিচ্ছেদ হওয়া ও বিধবা নারীরা নিজের মতো করে একা থাকতে পারবেন। এ জন্য তাদের অভিভাবকের অনুমতি নিতে হবে না।

মিডলইস্ট মনিটর জানায়, ‘সিঙ্গেল’ নারীদের ওপর অভিভাবকত্ব রয়েছে ঘনিষ্ঠ পুরুষ আত্মীয়ের। সংশোধিত আইনে প্রাপ্ত বয়স্ক নারীরা কে কোথায় বসবাস করবেন, তা তাদের বেছে নেয়ার অধিকার দেয়া হয়েছে।

তবে আলাদা থাকা অবস্থায় কোনো নারী অপরাধ করলে সে বিষয়ে তথ্য-প্রমাণসহ রিপোর্ট করতে পারবেন অভিভাবকরা। এ ক্ষেত্রে শাস্তি ভোগ করলে তাদের অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হবে না।

২০২০ সালের জুলাই মাসে সৌদি লেখিকা মারিয়াম আল-ওতাইবি তিন বছর আগে বাবা ও ভাইদের অত্যাচার এড়াতে তার পরিবার ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন।

তার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনি তার বাবা এবং ভাইদের দ্বারা নির্যাতনের অভিযোগে স্থান পরিবর্তন করেছিলেন।

তার বাবার দায়ের করা সেই মামলায় মেয়েটির পক্ষেই রায় দেওয়া হয়। নতুন এই নিয়ম প্রসঙ্গে সৌদি আইনজীবী নায়েফ আল-মানসি জানান, ‘যদি কারও মেয়ে একা থাকতে চায়, সেক্ষেত্রে তার পরিবার এখন থেকে আর মামলা করতে পারবে না।

অবিবাহিত, তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা নারীরা এই সুযোগ পাবে।’ সংশোধনী আইনটিতে আরও বলা হয়, ‘একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী কোথায় থাকবেন সেটা নির্ধারণ করার অধিকার তার রয়েছে।

যদি কোনো নারী কোনো অপরাধ করে, শুধু তখনই তার অভিভাবক এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে পারবেন। এমনকি যদি কোনো নারীর কারাদণ্ড হয়, তবে সাজার মেয়াদ শেষে তাকে তার অভিভাবকের কাছে ন্যস্ত করার কোনো বিধান থাকছে না।’

সর্বশেষ নিউজ