১, ডিসেম্বর, ২০২১, বুধবার

আলোচিতরা কেন পদোন্নতি পাননি?

র‍্যাবের সাবেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলমের কথা মনে আছে? ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছিল।

করোনাকালে তিনিই জালিয়াত শাহেদকে গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। জেকেজির আরিফ আর সাবরিনাকেও তিনি সাধারণ মানুষের সামনে এনেছিলেন। এরকম নানা গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলেন বিসিএস (প্রশাসন) ২৭ ব্যাচের এই কর্মকর্তা।

সম্প্রতি সরকার ৩ শতাধিক সিনিয়র সহকারী সচিবকে উপ-সচিব হিসেবে পদোন্নতি দিয়েছে। কিন্তু এই পদোন্নতির তালিকায় সরোয়ার আলমের নাম নেই। কেন তিনি পদোন্নতি পাননি, এনিয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজী নন।

সরোয়ার আলম নানা কারণে আলোচিত। আলোচিত হবার কারণেই কি তিনি পদোন্নতি পেলেন না? এ প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে। তবে সরোয়ারই প্রথম আলোচিত নন যিনি পদোন্নতি পাননি। ভেজালবিরোধী অভিযানের কারণে তারকা হয়েছিলেন রোকন-উদ-দৌলা। সৎ কর্মকর্তা হিসেবে তারও সুনাম আছে। কিন্তু তারও পদোন্নতি আটকে গেছে অতিরিক্ত সচিবে।

রোকন-উদ-দৌলা যখন ঢাকায় ভেজালবিরোধী অভিযান করে আলোচিত, তখন চট্টগ্রামে একই অভিযান করে প্রশংসিত হয়েছিলেন মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী। যিনি পরিবেশ অধিদপ্তরে এসেও আলোচিত হন। পরিবেশ সুরক্ষায় নানা অভিযানে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছিল।

বিএনপি আমলেই তিনি খালেদা জিয়ার পুত্র কোকোর লঞ্চ ঘাট ছেড়ে যাওয়ার পরেও ফিরিয়ে এনে বড় অংকের জরি’মানা করে তুমুল আলোচিত হয়েছিলেন। যুগের পর যুগ ক্ষমতাধরদের দখলে থাকা চট্টগ্রাম বন্দরের বিপুল পরিমাণ জমি উদ্ধার করেছিলেন কারো তোয়াক্কা না করেই।

এরপর তিনি যান দুদকে। দায়িত্ব পান মহাপরিচালক এবং এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান হিসেবে। এখানেও তার দুর্নীতিবিরোধী দৃঢ় অবস্থান প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু এতো প্রশংসিত হলেও তার ক্যারিয়ারে কোন লাভ হয়নি। সচিব হতে পারেননি মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী। তাকে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে ডাম্প করা হয়েছে।

এরকম আরেকজন মাহবুব কবীর মিলন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় হোটেল রেষ্টুরেন্টে মানসম্মত খাবার এবং খাদ্যে ভেজাল রোধে দেশব্যাপী নানান পদক্ষেপ নিয়ে এক বড় পরিবর্তন নিশ্চিত করতে গিয়ে আলোচিত হন।

এরপর তাকে বদলি করা হয় রেলপথ মন্ত্রণালয়ে। সেখানে রেলের টিকেটে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখেন। কিন্তু গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অভিযোগে তার বিরু’দ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।

প্রশাসনে অনেকের প্রশ্ন, সৎ কর্মকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি পাবার জন্যই কি তাদের এই পরিণতি? নাকি আলোচিত হওয়াটাই তাদের জন্য অভিশাপ। বিশ্লেষকরা মনে করেন, দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে যদি সাজা পেতে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এভাবে কেউই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হবে না। বাংলাইনসাইডার।

সর্বশেষ নিউজ