১, ডিসেম্বর, ২০২১, বুধবার

আসছেন মোদী, রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা বলয়

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব ছাড়াও সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ ঢাকায় আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

মোদীর ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে গেল কয়েকদিন ধরেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মোদীবিরোধী বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল চলছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী দুদিন ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বিদেশি শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুযায়ী ইতোমধ্যে সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চলাচল সীমিত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও তল্লাশিও চালানো হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ডিএমপির ডিবি, ডগ স্কোয়াড ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট তৎপর রয়েছে। পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকেরও ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ ও গোয়েন্দা সদ্য মাঠে রয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কৃষ্ণপদ রায় জানিয়েছেন, রাজধানীর নিরাপত্তায় পূর্ণ শক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে। পুরো রাজধানী নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লা জানিয়েছেন, কেবল নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা শুধু রাষ্ট্রপ্রধান নয়, দেশ ও দেশের বাইরে থেকে আসা যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সফরসূচি কেন্দ্র করে র‌্যাব অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা সরকারপ্রধানের আসা কেন্দ্র করে কোনও ধরনের নাশকতা যাতে না হয় সেজন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

মোদীর সফরসূচিতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যেসব স্থান রয়েছে সবখানে র‌্যাব তিন ধরণের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ওইসব স্থানে র‌্যাব সদস্যদের দৃশ্যমান উপস্থিতি, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং চালানো হচ্ছে।

মোদীর আগমন ঘিরে বাস পরিবহনগুলোর মালিক ও শ্রমিকদের ২৬-২৭ মার্চ রাজধানীতে সীমিত আকারে যানবাহন চালানোর মৌখিক নির্দেশনা দেয় হয়েছে। সময় ও সুযোগ বুঝে পরিবহনগুলোর মোট বাসের ৫ থেকে ১০ শতাংশ বাস চলাচল করতে বলা হয়েছে।

মোদীর দুইদিনের সফরের প্রথম দিন বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে সাভার, ধানমন্ডি ৩২, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে তাঁর যাতায়াত থাকবে। ওইসব সড়ক ও বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সফরের প্রথম দিন মোদীর চলাচলের সম্ভাব্য সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে, ২৬ মার্চ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদিসহ ভিভিআইপিদের ব্যবহৃত সম্ভাব্য সড়কগুলো হচ্ছে- বিমানবন্দর সড়ক, গাবতলী-আমিনবাজার-সাভার, ধানমন্ডি-মিরপুর সড়ক হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। এরপর ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে প্যারেড স্কয়ার, সবশেষে প্যারেড স্কয়ার থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল।

এদিকে সকালে বিমানবন্দরে অবতরণের পর সাভার স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন মোদী। বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বক্তব্য দেবেন।

বিদেশি শীর্ষ নেতাদের সাধারণত ঢাকার বাইরে যাওয়ার প্রচলন না থাকলেও মোদী এই সফরে সাতক্ষীরা ও গোপালগঞ্জ যাবেন। এর পাশাপাশি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ২৭ মার্চ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

সাতক্ষীরায় মোদী যশোরেশ্বরী কালী মন্দির পরিদর্শন করবেন। এরপর টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি পরিদর্শন করবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোদীকে অভ্যর্থনা জানাবেন। এছাড়াও মোদী মোতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান ওরাকান্দি পরিদর্শন করবেন এবং ওই সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে কথা বলবেন।

মোদীর এই ঢাকা সফরে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি কয়েকটি উদ্যোগের উদ্বোধন হবে। এরমধ্যে রয়েছে মেহেরপুরে স্বাধীনতা সড়ক, স্বাধীনতাযুদ্ধে নিহত ভারতীয় সৈনিকদের সম্মানে আশুগঞ্জে স্মৃতিসৌধ, কুষ্টিয়ায় কুঠিবাড়ি সংস্কার, একাধিক বর্ডার হাট, বঙ্গবন্ধুর ওপর স্ট্যাম্প ও নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন উদ্বোধন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্টাফ কলেজ ও ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও দুটি প্রকল্পের বিষয়ে সমঝোতা স্মারকের সম্ভাবনা রয়েছে এই সফরে।

সর্বশেষ নিউজ