২৮, অক্টোবর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

আসছে বাজেটে ১৩৮৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলাকে বিবেচনায় নিয়ে আসছে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ১৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ চেয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। যা চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বরাদ্দের চেয়ে ২৭ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছর এ মন্ত্রণালয়ের জন্য বাজেটে ১০ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর বাজেট প্রণয়নের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাছে তাদের সম্ভাব্য চাহিদা পাঠাতে বলা হয়। এরই অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত ৩ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর অনুরোধ করেছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, করোনার কারণে চলতি অর্থ বছরের বাজেটে স্বাস্থ্য বিভাগকে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছর শুরুর আগে দেশে নতুন করে করোনার প্রকোপ বাড়ছে। বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। আসছে অর্থবছরে চাওয়া হচ্ছে ১৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ নতুন অর্থবছরে ৩০০০ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তবে চাহিদার পুরোটা হয়তো দেয়া হবে না। তবে আসছে বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় যা দাবি করেছে তার তুলনায় ১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ দেয়া হতে পারে। অর্থাৎ ২০২১-২০২২ অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ১২ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পেতে পারে।

এ নিয়ে সম্প্রতি অর্থ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় এক সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কিছু অতিরিক্ত বরাদ্দ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নের জন্য চাওয়া হয়েছিল। আমরা অতিরিক্ত ৪ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা চেয়েছিলাম। তবে অর্থ বিভাগ ১৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ‘ব্যয়ের পারফরম্যান্স’ সন্তোষজনক নয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে প্রথম ৮ মাসে তারা মোট বাজেট বরাদ্দের মাত্র ২০.৩১ শতাংশ ব্যয় করতে পেরেছে। এছাড়া তাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হারও সন্তোষজনক নয়। মন্ত্রণালয়টি এডিপি বরাদ্দের মাত্র ৩৩.৩৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।

বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উন্নয়ন বরাদ্দ ব্যয় করার মতো সামর্থ্য নেই। এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারি ও প্রকল্প পরিচালকদের ঘন ঘন পরিবর্তন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধার বড় কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সর্বশেষ নিউজ