২০, অক্টোবর, ২০২১, বুধবার

ইন্টারনেটে কিডনি কেনাবেচার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা, গ্রেফতার ৫

স্টাফ রিপোটার:
ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কিডনি কেনাবেচার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। সোমবার (১১ অক্টোবর) জয়পুরহাট জেলা এবং রাজধানীর নর্দা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো ‑ শাহরিয়ার ইমরান আহমেদ, মেহেদী হাসান, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, তাজুল ইসলাম। তাদের কাছ থেকে চারটি চিকিৎসার জন্য তৈরি পাসপোর্ট ও ভিসা সম্পর্কিত কাগজপত্রসহ দেশি-বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর কাওরান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ওই চক্রে ১৫ থেকে ২০ সদস্য রয়েছে। তারা মূলত তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে কিডনি ক্রয়-বিক্রয়ের কাজটি করে থাকে। প্রথম গ্রুপ ঢাকায় অবস্থান করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন এমন বিত্তশালী রোগীদের সাথে যোগাযোগ করে। দ্বিতীয় গ্রুপটি প্রথম গ্রুপের চাহিদা মোতাবেক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের চিহ্নিত করে তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে টাকার বিনিময়ে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের জন্য ডোনার হতে ঢাকায় নিয়ে আসে।

পরবর্তী সময়ে তৃতীয় গ্রুপ ঢাকায় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কিডনি ট্রানস্প্লান্টেশনের রোগীর সাথে মেডিক্যাল মেচিং এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। ডায়াগনস্টিক টেস্টে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের উপযোগিতা নিশ্চিত হলে, তার পাসপোর্ট, ভিসা প্রসেসিং এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে ভুক্তভোগী ডোনারকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করে তারা। এই চক্রের সাথে পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থানকারী আরেকটি চক্র পারস্পরিক যোগসাজশে কিডনি ডোনারকে বিদেশের নিয়ে যাওয়াসহ যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করে ভিকটিমকে আবার দেশে পাঠায়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, চক্রটি এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। প্রতিটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তারা রোগীদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নিত। বিপরীতে তারা কিডনি ডোনারকে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে দেবে বলে আশ্বস্ত করত এবং অগ্রিম ২ লাখ টাকা প্রদান করত। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের পর ভিকটিমকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থ না দিয়ে নানা ধরনের ভয়-ভীতি দেখাতো।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, প্রতারক ইমরান ফেসবুকে বাংলাদেশ কিডনি ও লিভার পেশেন্ট চিকিৎসা সেবা এবং কিডনি লিভার চিকিৎসা সেবা ‑ নামে দুটি পেইজে কিডনি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য প্রায় শতাধিক মানুষকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার করেছে। গ্রেফতারকৃত আব্দুল মান্নান এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়। তার বিরুদ্ধে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে ৬টির বেশি মামলা রয়েছে। এছাড়া তাজুলের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত দুই আসামি সাইফুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান কিডনি ডোনারদের পার্শ্ববর্তী দেশে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট, মেডিকেল ভিসা এবং অন্যান্য কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে প্রস্তুত করত।

সর্বশেষ নিউজ