৩, ডিসেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ছুরিকাঘাতে আহত ব্যাক্তিও মারা গেছে

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ মুন্সীগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুরে ইভটিজিং ঘটনায় সালিস চলাকালে কিশোর গ্যাংদের ছুরিকাঘাতে আহত মিন্টু প্রধান (৪০) ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাড়ালো তিনজন।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে মারা যায় মো. ইমন হোসেন (২২) ও মো. সাকিব হোসেন (১৯)। নিহত মিন্টু প্রধান শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকার মৃত আনোয়ার আলী কন্ট্রাকটরের ছেলে।ইমন কাশেম পাঠানের ছেলে। সাকিব একই এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

এদিকে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবীতে নিহত ইমন পাঠানারে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তর ইসলামপুর থেকে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে। এসব ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, উত্তর ইসলামপুর এলাকার কিশোর-তরুণদের কয়েকটি দল আছে। আধিপত্য নিয়ে পক্ষগুলো প্রায়ই ঝামেলায় জড়ায়। ঘটেছে একাধিক মারামারির ঘটনাও। বুধবার বিকেলে ইভটিজিং এর মত একটি মিথ্যা ঘটনা নিয়ে এক পক্ষের সৌরভ, অভিদের সঙ্গে অন্য পক্ষের ইমন ও সাকিবদের কথা–কাটাকাটি হয়। এ সময় উভয় পক্ষ হাতাহাতি–মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে রাত ১০ টার দিকে সালিসে বসে দুই পক্ষের লোকজন। এসময় আওলাদ হোসেন মিন্টুও সালিসে যায়। সালিসের একপর্যায়ে সৌরভদের পক্ষের ১০ থেকে ১৫ জন ইমনদের পক্ষের লোকজনকে মারধর শুরু করে। সে সময় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন ইমন, সাকিব ও আওলাদ হোসেন মিন্টু প্রধান। রাত ১১টার দিকে তাঁদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ইমনকে মৃত ঘোষণা করে আপর আহত মিন্টু প্রধান ও সাকিবকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত ১২টার দিকে মারা যান সাকিব। বৃহস্পতিবার পৌনে ১২ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় আওলাদ হোসেন মিন্টু প্রধান।

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফেরদৌস বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে এক তরুণ মৃত ছিলেন। অপর দুজন গুরুতর আহত ছিলেন। ওই দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত সাকিবের বড় বোন সাথী আক্তার বলেন, সালিসে তাঁর মা–বাবাও গিয়েছিলেন। তাঁর ভাই সাকিব মাফ চাওয়ার জন্য প্রতিপক্ষের লোকজনের পায়ে ধরেছিল। ওই সময় ভাইকে ছুরি মারা হয় বলে তিনি জানান। তিনি ভাই হত্যার বিচার চান।

নিহত আওলাদ হোসেন মিন্টু প্রধানের ছোট ভাই আফসার উদ্দিন বলেন, আমার ভাই বিচার করতে গিয়েছিল। বিচার শেষে দুপক্ষের লোকজনকে মিলিয়ে দিলো।অথচ ওরা আমার ভাইকেও মেরে ফেললো। আমার ভাইয়ের ছোট ছোট বাচ্চা আছে।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার আবদুল মোমেন বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে। কোনো একটি বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়েছিল। গতকাল রাতে এ নিয়ে সালিস বসে। সেখানেই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৮ থেকে ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। যারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সর্বশেষ নিউজ