৭, ডিসেম্বর, ২০২১, মঙ্গলবার

‘ইরানকে কখনো পরমাণু অস্ত্র বানাতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র’

যুক্তরাষ্ট্রের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয় হুড বলেছেন, ইরানকে কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। দুই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেনও এই কথা বলেছিলেন।

মার্কিন এই সিনিয়র কূটনীতিক এমন এক সময় এই কথা বললেন যখন ইসরাইল বলছে- পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে ইরান মাত্র ৬০ দিন দূরে রয়েছে। ইরানকে থামাতে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইসরাইল তেহরানে হামলার পরিকল্পনাও প্রকাশ করেছে।

ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে না পারে সেজন্য তেহরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, রাশিয়া, চীনসহ বিশ্বের ৬ শক্তিধর দেশ।

কিন্তু ওবামার আমলে সম্পাদিত চুক্তিটিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বাজে চুক্তি’ উল্লেখ করে চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেয়। এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেলেও ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, জার্মানি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মনে করে, এখনও এই চুক্তির গুরুত্ব আছে। কারণ এই পরমাণু চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক তদারকিতে রাখা।

গত বছর জেনারেল কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার পর ইরান ঘোষণা করে যে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তার কোনটিই তারা আর মেনে চলবে না। এরপর আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ইরান পরমাণু চুল্লি বৃদ্ধি করছে বলে খবর বেরিয়েছে।

সম্প্রতি ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান বেনি গ্যান্টজ বলেছেন, পরমাণু অস্ত্র বানানোর সক্ষমতা থেকে ইরান আর মাত্র ২ মাস দূরে আছে। জাতিসংঘের পরমাণু তদারক সংস্থাও সম্প্রতি ইরানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ভয়ঙ্কর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে ইরানকে পরমাণু চুক্তিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে গত মে মাস থেকে ইরানের সঙ্গে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অন্তত ৬ দফা বৈঠকও করেছে। কিন্তু আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি।

ইরানকে পরমাণু চুক্তিতে ফেরানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে কী ঘটবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয় হুড কোনো অনুমান করা থেকে বিরত থেকে বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেনসহ যুক্তরাষ্ট্র সরকার এ বিষয়ে খুবই স্বচ্ছ। আমরা ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বানাতে দেব না। এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সকল মিত্র এবং মধ্যপ্রাচ্য এলাকাও একমত। মার্কিন এই মন্ত্রী ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানান।

সম্প্রতি ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, তেহরান আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা করতে আগ্রহী নয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

সর্বশেষ নিউজ