২০, অক্টোবর, ২০২১, বুধবার

উপমহাদেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক ও সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্মদিনে ক্রাইমভিশন পরিবারের শুভেচ্ছা

ক্রাইমভিশন ডেস্ক:

১১ অক্টোবর, সোমবার উপমহাদেশের প্রখ্যাত চিকিৎসক ও রাজনৈতিক সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি.চৌধুরী) ৯১তম শুভ জন্মদিন । বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্রাইমভিশন.নিউজ এর পক্ষ থেকে মহান এই মানুষটিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হয়।

ক্রাইমভিশন পরিবারের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, রিপোর্টারসহ সকলে এ গুণী ব্যক্তির দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করেন।

বিভিন্ন মহল তাঁর জম্মদিনে সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

একাধারে তিনি একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক, লেখক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, উপস্থাপক এবং সুবক্তাসহ বহুগুনের অধিকারী । এছাড়াও তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি, চিকিৎসাবিদ্যায় স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ী, বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি, দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ সদস্য,পঞ্চম জাতীয় সংসদ সদস্য, ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ সদস্য,সপ্তম জাতীয় সংসদ সদস্য,অষ্টম জাতীয় সংসদ সদস্য,বাংলাদেশী চিকিৎসক, ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিনি উপ-প্রধানমন্ত্রী ছিলেন,বাংলাদেশের ১৪তম রাষ্ট্রপতি ।

১৯৩০ সালের এই দিনে মুন্সেফ বাড়ি, কুমিল্লা  তার নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সেইন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল থেকে ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৪৯ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন।  তিনি মাধ্যমিক পাস করেন মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থেকে। পরবর্তীতে  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হতে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে বিদেশে উচ্চতর অধ্যয়নের জন্য নির্বাচিত হন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও লন্ডন, এডিনবরা ও গ্লাসগো রয়াল কলেজ এ।  বদরুদ্দোজা চৌধুরী লন্ডনে অবস্থিত কারফিউ এন্ড এডিনবার্গ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তার বাবা প্রয়াত কফিল উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত ও খ্যাতনামা উকিল। এছাড়াও তার বাবা ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা ও তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের মন্ত্রী।

জনাব বি. চৌধুরী তার কর্মজীবন শুরু করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সবচাইতে নবীন অধ্যাপক হিসেবে। তিনি স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ষাটের দশকের শেষের দিকে জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান “আপনার ডাক্তার” এর উপস্থাপক হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি ১৯৭৭ সালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জিয়াউর রহমান এর সরকারে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন।  তিনি ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

সাত মাসাধিককাল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ৩০ মে ২০০২ তারিখে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিরপেক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানের সমাধি পরিদর্শন না করার সিদ্ধান্ত নেন। তার এই পদক্ষেপে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির অনেক নেতা তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনেন। সংসদে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবেরও পরিকল্পনা চলছিল। নিজ দলের মধ্যে বিরাজমান ক্ষোভ ও ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তিনি সেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগের পর ড. চৌধুরী বিএনপি থেকেও পদত্যাগ করেন। পরবর্তীকালে এবং বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত তার পুত্র মাহি বি চৌধুরী ।

ড. চৌধুরী ব্যক্তিগত জীবনে হাসিনা ওয়ারদা চৌধুরীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ। তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানের জনক। তার পুত্র মাহি বি চৌধুরী তরুন রাজনৈতিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব। তার বড় মেয়ে মুনা চৌধুরী ব্যারিস্টার ও ছোট মেয়ে শায়লা শারমিন চৌধুরী পেশায় একজন চিকিৎসক। জনাব চৌধুরী রাজনীতি ও সমাজ উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৩ সালে দেশের সর্ব-উচ্চ বেসামরিক পদক স্বাধীনতা পদক লাভ করেন। শ্রেষ্ঠ টিভি উপস্থাপক হিসেবে তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশন পুরস্কারও লাভ করেন।

জীবন্ত এই কিংবদন্তী চিকিৎসক ও রাজনৈতিক সর্বক্ষেত্রে তার কর্মের স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর পথচলা হোক সুদীর্ঘ। অনেক অনেক শুভ কামনা রইলো শ্রদ্ধাভাজন একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি.চৌধুরী) এর জন্য।

 

 

 

 

 

 

সর্বশেষ নিউজ