৩, ডিসেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

এই রমজানেই আরেকটি ‘বদরযুদ্ধের’ ডাক দিয়েছিলো হেফাজত

এই রমজানে হেফাজতে ইসলাম আরেকটি ‘বদরযুদ্ধের’ ডাক দিয়েছিলো বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুল আলম। গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তিনি এই তথ্য জানান।

মাহবুবুল আলম বলেন, রমজান মাসে বদরযুদ্ধ হয়েছিলো। এই রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতার ডাক দিয়েছিলো হেফাজত। ২৬ মার্চে শুরু হওয়া সহিং’সতা রমজান পর্যন্ত টেনে আনার পরিকল্পনা ছিলো তাদের।

গ্রেপ্তারকৃত নেতারা জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য দিয়েছেন বলে জানান গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা।

চলতি রমজানে দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির নীলনকশা করা হয়েছিলো উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশ-বিদেশ থেকে মাদ্রাসায় আসা অনুদানের টাকা সাম্প্রতিক সহিং’সতায় খরচ করা হয়েছিলো।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের পরম মিত্র ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে হেফাজতে ইসলাম।

এর জেরে গত ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সহিং’সতা হয়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

এরপর গত কয়েক সপ্তাহে সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় ৩০ জন নেতা গ্রেপ্তার হন। এদের প্রায় সবাই সদ্য বাতিকলকৃত কমিটির বিভিন্ন পদে ছিলেন। তাদের অধিকাংশের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুল আলম বলেন, রমজানকে সামনে রেখে দেশজুড়ে বড় ধরনের না’শকতার পরিকল্পনা ছিলো হেফাজতের। মাদ্রাসার অনুদানের টাকা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খরচ করার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

হেফাজত নেতাদের বিচার চেয়ে পদত্যাগকারী হেফাজত নেতাও গ্রেপ্তার

মামলা থেকে বাঁচতে ভোল বদলেছিলেন তিনি, তবুও শেষ রক্ষা হলো না।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের পরম মিত্র ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধীতা করে দেশজুড়ে চালানো তা’ণ্ডবের পর একে একে মামলায় গ্রেপ্তার হচ্ছিল হেফাজতের শীর্ষ নেতারা।

অবস্থা বেগতিক দেখে ভোল বদলে দলের নেতাদের বিচার চেয়ে হেফাজতে ইসলাম থেকে পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ভাদুঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সদ্য বাতিল করা কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য ছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) রইছ উদ্দিন জানান, তদন্তে হেফাজতে ইসলামের চালানো তা’ণ্ডবে আব্দুর রহিম কাসেমীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া ২০১৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চালানো তা’ণ্ডবেও তার সংশ্লিষ্টতা ছিল।

এই তা’ণ্ডবের প্রতিবাদ এবং জড়িতদের বিচার চেয়ে গত ২৩ এপ্রিল হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ এবং জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেন আব্দুর রহিম কাসেমী।

সে দিন সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে আব্দুর রহিম কাসেমী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের ডাকে যে চরম বি’শৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তা নজিরবিহীন ও অ-মানবিক। দেশ ও জনগণের জানমালের ক্ষতি কোনোভাবেই ইসলামসম্মত হতে পারে না।

যাদের প্ররোচনায় দেশ ও জনগণের জানমালের এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবিও দাবি জানান কাসেমী।

এমনকি সেই বিবৃতিতে তিনি নিজে এমন কর্মকে সমর্থন করেন না, সংগঠনের এমন কর্মে তিনি নিজে জড়িতও ছিলেন না বলে দাবি করেন।

গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলওয়ে স্টেশন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা, জেলা পরিষদ কার্যালয়, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, পৌরসভা কার্যালয়, পৌরমিলনায়তন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস ও আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনসহ বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সব ঘটনায় ৫৬টি মামলা দায়ের হয়েছে।

এ মামলাগুলোয় আসামির সংখ্যা ৪১৪ জন, আর অ’জ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ৩৫ হাজারেরও বেশি।

সর্বশেষ নিউজ