৩, ডিসেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

একটি ক্যানেল খননে,হাজারও কৃষকের মুখে হাসি

মেহেদী হাসান উজ্জ্বল,ফুলবাড়ী( দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী এবং দৌলতপুর এলাকায় এক সময় পানি নিস্কাসনের গতি পথ বন্ধ করে অপরিকল্পিত ভাবে যেখানে সেখানে পুকুর খনন করায় প্রায় ৩ হাজার বিঘা ফসলি জমিতে সারা বছর ছিলো জলাবদ্ধতা, সেখানে চাষআবাদ করা ছিলো দুস্বাধ্য।

ক্যানেল খনন করায় এবছর সেই জমিতে সোনালী ধানের শীষ বাতাসে দোলা খাচ্ছে, হাজারও কৃষকের মুখে খুশির ঝিলিক। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকরা বলছেন, ওই তিন হাজার বিঘা জমিতে এবার ব্যপক ফলন হওয়ায় প্রায় ৭৫ হাজার মন অতিরিক্ত ধান উৎপন্ন হবে এ উপজেলায়।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার খয়েরবাড়ী এবং দৌলতপুর ইউনিয়নের লালপুর গ্রাম থেকে দক্ষিণে দূর্গাপুর গ্রাম পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার বিঘা ফসলের মাঠ রয়েছে। এই ফসলের মাঠের পশ্চিম দিকে রয়েছে ছোট যমুনা নদী। বারাইপাড়া গ্রাম থেকে ছোট যমুনা নদীতে পানি নিষ্কাষনের জন্য ক্যানেল রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীদের বাঁধায় ফসলের মাঠ থেকে বারাইপাড়া পানি নিষ্কাশনের ক্যানেল নদী পর্যন্ত ৩’শ মিটারের একটি সংযোগ ক্যানেল না হওয়ায় এবং কিছু কিছু জায়গায় পানি নিস্কাশনের গতি পথ বন্ধ করে পুকুর খনন করায় এই জলবদ্ধতা দেখা দেয় তিন হাজার বিঘা ফসলি জমিতে। ফলে দির্ঘদিন ধরে সব ধরনের চাষাবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন ওই এলাকার প্রায় ১ হাজার কৃষক। অবশেষে গতবছর ২৪ অক্টোবর তৎকালিন ডিসি বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহমুদুল আলম নিজে স্থানীয় প্রশাসন, জন প্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো: আতাউর রহমান মিল্টনের নিরলস প্রচেষ্টায় একদিনে ৩০০ মিটার ক্যানেল খনন করেন। এতে নিরসন হয় ওই ফসলি জমি গুলোর জলাবদ্ধতার। ফলে দীর্ঘদিন পর এবছর সেই তিন হাজার বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষআবাদ করে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো তিন হাজার বিঘা ফসলের মাঠ জুড়ে পাকা আধাপাকা ধানে ভরে গেছে। যেদিকে তাকাই শুধু ধান আর ধান,কিছু কিছু জমিতে কিষান-কিষানিরা ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছে।
কথা হয় বারাইপাড়া গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম এর সাথে তিনি বলেন, কৃষি কাজই তাঁর একমাত্র পেশা। এবছর তিনি ৭ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে তাঁর গড়ে ২৫ মন করে ধান হয়েছে। অথচ গত কয়েক বছর ধরে জলা বদ্ধতার কারনে একটি ফসলও তিনি পাননি। গতবছর ডিসি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টন এর নিরলস প্রচেষ্টায় এই ক্যানেল না খুড়লে, এবছর কোন ফসল আবাদ করতে পারতেন না। ফলে পরিবার নিয়ে তাঁকে পথে বসতে হতো।

মাহদিপুর গ্রামের কৃষক সাইদুর ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন এসব জমিতে কোন ফসল আবাদ না হওয়ায় এখানকার কৃষকরা দিন দিন ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছিলো। তৎকালিন ডিসি এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের সহোযোগিতার কারনে আজ অনেক কৃষক সেই ঋণের জাল থেকে মুক্তি পাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: আতাউর রহমান মিল্টন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে অনেক দেন দরবার করেও ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কোন সুরাহা করা সম্ভব হচ্ছিলোনা। অবশেষে সেই সময় দিনাজপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে মাহামুদুল আলম যোগদান করার পরে তার সাথে পরামর্শ করে ক্যানেলটি খোঁড়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়। অবশেষে গতবছর ২৪ অক্টোবর দিনাজপুর-৫ আসনের এমপি সাবেক মন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: মোস্তাফিজুর রহমানের সহযোগিতায় তৎকালিন ডিসি মাহমুদুল আলমসহ কোদাল ধরে ক্যানেল খননের সূচনা করা হয়। সেখানে সারাদিন থেকে ক্যানেল খননের কাজ শেষ করে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়। যার ফলে উপজেলার দুই ইউনিয়নের হাজারো কৃষকের মুখে আজ হাসি ফুটেছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন জানান, সরকারের ডেল্টা প্রকল্পের আওতায় সরকার ওইসব জমির পনি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিয়েছিলো। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারনে সেই ক্যানেল করা সম্ভব হচ্ছিলনা। সাবেক ডিসি মাহমুদুল আলমের উদ্যোগে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়েছে। সে কারনে দুই ইউনিয়নের তিন হাজার বিঘা জমিতে এখন ব্যপক ধান উৎপাদন হচ্ছে । ক্যানেলটি পাকা করনের কাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।
সাবেক ডিসি এবং বর্তমান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো: মাহমুদুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এক ইঞ্চি জমিও যেনো অনাবাদী হয়ে পড়ে না থাকে। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা মোতাবেক ওই এলাকার হাজারো কৃষকের দুর্দশা লাঘবে ওই ক্যানেল খনন করা হয়। যার সুফল আজ উপজেলার হাজারো কৃষক পাচ্ছে।

সর্বশেষ নিউজ