৩, ডিসেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

এবার প্রতিশ্রুতি পূরণের পালা

তৃতীয় মা-মাটি-মানুষ-এর সরকারের কাছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। আর এই প্রত্যাশা বাড়িয়েছেন স্বয়ং তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেননা তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তাহারে যে ১০টি মূল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তাতে খুব স্বাভাবিকভাবেই তৃতীয় তৃণমূল সরকারের কাছে মানুষের দাবি অনেক বেড়ে গেছে।

তবে ২০১৬-তে রাজ্যে ক্ষমতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা তিনি পূরণ করেছেন বলেই তিনি দাবি করেন। যদিও বিরোধীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দাবি মানতে চান না। কিন্তু ২০২১-এর নির্বাচনের ফলই বলে দিচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতির ওপর রাজ্যের মানুষের ভরসা আছে। তার অর্থ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন।

কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির অনেক তজর্ন-গর্জন উপেক্ষা করে বেশ সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছেন পশ্চিম বাংলার মেয়ে বা দিদি খ্যাত মমতা বন্দোপাধ্যায়। আজ বুধবার নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথও নিয়েছেন তিনি। এবার তার সামনে প্রতিশ্রুতি পূরণের পালা শুরু হলো। কারণ বরাবরের মতো এবারো যে তিনি বাংলার জনগণকে অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

নির্বাচনী ইশতেহারে যে ১০টি মূল প্রতিশ্রুতি তৃণমূলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল, এতে খুব স্বাভাবিকভাবেই তৃতীয় মেয়াদে মমতার নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে মানুষের দাবি অনেক বেড়ে গেছে।

কলকাতা টোয়েন্টিফোর এক প্রতিবেদনে বলেছে, তৃতীয় মেয়াদে এসে তৃণমূল সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা আগের চেয়ে অনেক বেশি। আর একই কারণে মমতার সরকারের দায়িত্বও অনেক গুণ বেড়ে গেছে। নির্বাচনী সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসসি বা এটি (SC/TS) এবং সাধারণ সম্প্রদায়ের (General cast) নারীদের মাসে ১০০ ও ৫০০ টাকা করে হাত খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর এ কারণেই দায়িত্বটা বেশি বলা হচ্ছে।

তৃতীয়বারের মত শপথ গ্রহণ করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে, নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকার স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেওয়ার কাজ শুরু করলেও অনেক মানুষ এখনো সেই কার্ড পায়নি। নির্বাচনী জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বছরে চার বার দুয়ারে সরকার হবে। আর সেখানে নাম লেখালেই পাওয়া যাবে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড। এ ছাড়া আগামী জুন মাস থেকে পরবর্তী ৫ বছর বাংলার মানুষের ঘরে ঘরে রেশন পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। যেসব কৃষকের এক একর জমি আছে, তাদের ১০ হাজার টাকা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। তাছাড়া ১৮ বছরের বেশি যেসব বিধবা আছেন বা হবেন, তাদের বিধবা ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। আগামী ৫ বছর এই সব প্রতিশ্রুতি পালন করে চলতে হবে মমতার সরকারকে। তাই শপথ গ্রহণ শেষে এবার শুরু হলো প্রতিশ্রুতি পূরণের পালা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিশ্রুতি যতই থাক, এই মুহূর্তে মমতার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো করোনা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর সেটা নিজেও বলেছেন মমতা।

তিনি বলে আসছেন, আমার কাছে এই মুহূর্তে প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকারের বিষয় হচ্ছে করোনা মহামারি। রাজ্যের অসংখ্য মানুষ ভাইসরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। রাজ্য প্রশাসনের এখন প্রধান ও প্রথম কাজ হলো তাদের পাশে দাঁড়ানো।

ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে দলের বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নিজ নিজ এলাকায় করোনা নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় কাজ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আর এর মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার দলের নেতাদের এটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, এই জয় যতটা না আনন্দের, তার চেয়ে বেশি দায়িত্বের।

সর্বশেষ নিউজ