৫, আগস্ট, ২০২১, বৃহস্পতিবার

এসআইয়ের কোটিপতি স্ত্রী এখন কারাগারে

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নওয়াব আলীর কোটিপতি স্ত্রী গোলজার বেগমকে কারগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (০৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোলজার বেগম চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। দুদকের পক্ষে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয়পক্ষের সশুনানি শেষে আদালত আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গোলজার বেগম চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার স্বামী নওয়াব আলী বর্তমানে ঢাকায় সিআইডির এসআই পদে কর্মরত আছেন।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ মামলায় দুদকের দেয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গোলজার বেগম, তার স্বামী এসআই নওয়াব আলীসহ ৪ আসামির বিরুদ্ধে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। পত্রিকায় এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর আসামি গোলজার বেগম আজ আত্মসমর্পণ করেন। এ মাশলায় আগামী ৬ এপ্রিল শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে কনস্টেবল পদে যোগ দেন নওয়াব আলী। তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকার মালিক সাজিয়েছেন স্ত্রী গোলজার বেগমকে। মাছ চাষ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আয় করেছেন বলে কাগজপত্রে দেখালেও বাস্তবে মাছ চাষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তারপরও মাছ চাষ করা হয় মর্মে কর কর্মকর্তা প্রতিবেদন দিয়েছেন।

এসআই নওয়াব আলী, গোলজার বেগম, কর অঞ্চল-১ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) বাহার উদ্দিন চৌধুরী ও কর পরিদর্শক দীপংকর ঘোষকে আসামি করে আদালতে দুদক অভিযোগপত্র দিয়েছে।

তবে এসআই নওয়াব গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তাকে হয়রানি করতে দুদক মিথ্যা মামলা করেছে। স্ত্রীর মাছ চাষের আয়ে তার সব অর্জন।

এদিকে তদন্তে নেমে দুদক জানতে পেরেছে, নওয়াব আলীর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের কেকানিয়া এলাকায়। সেখানে ২০১৩ সালে ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির ওপর একটি দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেন নিজের নামে। স্ত্রীর নামে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ছলিমপুরে ৩৫৪ শতক জমি, চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার এলাকায় পার্কিংসহ ১ হাজার ১০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, একই এলাকায় ৪ শতক জমি রয়েছে। গোলজারের নামে একটি মাইক্রোবাসও রয়েছে।

দুদকে দাখিল করা সম্পদের হিসাব বিবরণীতে গোলজার দাবি করেছেন, তিনি মিরসরাইয়ের পশ্চিম ইছাখালীর মদ্দারহাটে হারেস আহমদ, আনিসুল হক, জাহাঙ্গীর আলম, শওকত আকবরসহ ৭ জনের সঙ্গে চুক্তি করে একটি জলমহাল ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করেছেন।

কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, হারেস আহমমসহ যেসব ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি দেখানো হয়েছে তারা প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন।

সর্বশেষ নিউজ