১৭, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

কমিটি বাণিজ্য নিয়ে আবারও তোলপাড় বিএনপিতে!

দলকে উজ্জীবিত করার মত কোনো সিরিয়াস রাজনৈতিক ইস্যু নেই, আন্দোলন করার শক্তি সামর্থ্যও ফুরিয়ে গেছে। একরকম নিস্তব্ধ নিথর হয়ে আছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। কিন্তু এর মধ্যেও দলটির ভেতরে ভেতরে উত্তাপ ছড়ানো হচ্ছে এবং যার মূল কারণ কমিটি বাণিজ্য।

বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় এবং এমনকি ঢাকা মহানগরীতে কমিটির জন্য অবাধে টাকা লেনদেন হচ্ছে। আর এসব লেনদেন করা হচ্ছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে। কেউ কেউ দাবি করেছেন তারা সরাসরি তারেক রহমানকে টাকা দিয়েছেন, কিন্তু টাকা দিয়েও তারা কমিটিতে থাকতে পারেননি।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশি উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে ঢাকা মহানগরী কমিটি নিয়ে। এই কমিটির পুনর্বিন্যাস করা হবে এমন কথাবার্তা বলা হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করা হয়নি। ঢাকা মহানগরের কমিটির ক্ষেত্রে যারা আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদেরকে বাদ দিয়ে যারা টাকা পয়সা দিতে পারছেন তাদেরকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর বাণিজ্যের মূল হোতা হিসেবে নাম এসেছে তারেক রহমানের।

বিএনপির একজন নেতা যিনি দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন এবার ঢাকার একটি আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি, তিনি অভিযোগ করেছেন, সরাসরি তারেক রহমান এই কমিটি বাণিজ্য করছেন এবং তিনি ঢাকা মহানগরীর বড় পদের জন্য ১ কোটি টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করছেন। লন্ডনে টাকা পৌঁছানোর পরই তাকে কমিটিতে রাখা হবে কি হবে না সেটি বলে দেয়া হচ্ছে।

আর ঢাকা মহানগরীতে এই কমিটি বাণিজ্যের বিষয়টা এখন এত প্রকাশ্য হয়ে গেছে যে বিএনপির লোকজন ধার দেনা করে টাকা যোগাড় করতে চাইছেন কমিটিতে থাকার জন্য। শুধু ঢাকা মহানগরীর কমিটি নয় বরং সারাদেশে এমনকি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কমিটি নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগগুলো উঠেছে খোদ তারেক রহমানের নামে।

তবে শুধু তারেক রহমান একাই এসব অর্থ পকেটে পুরছেন, তা নয়; বরং বিএনপির আরো কয়েকজন নেতাও কমিটি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত আছেন। যদিও তাদের দাবি, তারা এই টাকা তুলছেন তারেক রহমানের পক্ষ থেকে।

কমিটির জন্য বিভিন্ন নেতাদের কাছ থেকে যারা টাকা নিয়েছেন বলে দলে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারা দল চালানোর কথা বলে বা বিভিন্ন ইস্যুতে কর্মীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন।

বিএনপির তৃণমূলের একজন নেতা বলেছেন, গত ১৪ বছর ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে। দলের নেতাকর্মীদের অবস্থা এমনিতেই খারাপ। ব্যবসা-বাণিজ্য তারা করতে পারছেন না। কিন্তু এই মুহূর্তে কমিটিতে থাকার জন্য টাকা চাওয়া হচ্ছে। টাকা পেলেই কমিটিতে রাখা হবে, টাকা না পেলে কমিটিতে রাখা হবে না এরকম বার্তা দেয়া হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা মহানগরীর কমিটি করার জন্য অন্তত ২০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিএনপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। আর এর প্রেক্ষিতে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে যে তারেক রহমান নির্বাচন বাদ দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকেই চাঁদা তোলা শুরু করেছেন।

চাঁদা নিয়েও যদি কমিটিতে রাখা হতো তাহলে হয়তো এতো কথা হতো না। একই পদের বিপরীতে ৩-৪ জনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাদের একজনকে কমিটিতে রাখা হচ্ছে বাকিরাও টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। এসব লেনদেনের যেহেতু কোনো নথিপত্র থাকে না, তাই টাকা দিয়েছেন- এমন দাবিরও কোনো প্রমাণ থাকে না।

এসব কারণে বিএনপিতে এখন অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে তীব্রভাবে। নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের এরকম অর্থলিপ্সায় বিরক্ত। যে কোনো সময় গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে মত দিয়েছেন শীর্ষ কয়েকজন নেতা। বাংলাইনসাইডার।

সর্বশেষ নিউজ