৭, জুলাই, ২০২২, বৃহস্পতিবার

কেন আওয়ামী লীগ টানা ক্ষমতায়, কেন ষড়যন্ত্র করে নামানো যাচ্ছে না- চিন্তায় অস্থির যারা

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তি সরব হয়েছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কিছু ব্যক্তি যখন সরব হযন তখন বাংলাদেশে রাজনীতিতে কিছু অশুভ তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। এরা অশুভ তৎপরতার ইঙ্গিতবাহী।

আর এই সমস্ত ব্যক্তিরা যখন একই সুরে কথা বলেন তখন এটা বুঝতে অসুবিধা হয় না, দীর্ঘদিন যে বাংলাদেশে সুস্থ রাজনৈতিক ধারা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলমান, নাশকতা নেই, অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞ চলছে, তখন একটি মহল ষড়যন্ত্র শুরু করছে। আর এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো সরকারকে অস্থিতিশীল করা, সরকারকে বিপদে ফেলা।

কদিন আগে সাবেক বিএনপি নেতা এবং এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ জাতীয় সরকারের কথা বলেছেন। আর গত কয়েক দিন ধরে ডা. জাফরুল্লাহ বিএনপিকে উসকানি দিয়ে এমন সব কথা বলছেন, যেন মনে হচ্ছে সরকারের বিরুদ্ধে এখনও কোন আন্দোলন হচ্ছে না, এই দুঃখে তার ঘুম নেই।

হঠাৎ করে তিনি কেন সরব হলেন? বিশেষ করে যখন দেশে করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে, করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য সকলের দায়িত্ব পালন করার কথা, তখন কেন ডা. জাফরুল্লাহ সরকার পতনের আন্দোলনে বিএনপির ব্যর্থতা নিয়ে দুঃখী মানুষে পরিণত হলেন, সে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

ইদানীং আবার তৎপর হয়েছেন মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইবরাহিম। তিনি কিছুদিন আগে বিভিন্ন বুদ্ধিজীবী এবং বিএনপি-জামায়াতপন্থী সুশীলদেরকে নিয়ে ঘোঁট পাকাতে চেয়েছিলেন, কয়েকটি বৈঠকও করেছিলেন। তারপর তিনি হঠাৎ আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যান। এখন আবার নতুন করে তিনি সরব হচ্ছেন বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, যখন দেশে সবকিছু সুন্দরভাবে চলতে থাকে তখন কিছু মানুষের ঘুম হারাম হয়ে যায়। তারা সবসময় অগণতান্ত্রিক শক্তিকে কাঙ্ক্ষিত মনে করেন। সেই অপশক্তি ক্ষমতায় এলে এই সুশীলদের বাড়বাড়ন্ত হয়, তারা উপদেষ্টা বা প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হন। তাদের কদর বাড়ে।

এমন কিছু ব্যক্তি বাংলাদেশে রয়েছেন, যারা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারেন না, কিন্তু অনির্বাচিত সরকার এলেই তারা প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। এই ব্যক্তিরা গত একযুগে বেশ মুষড়ে পড়েছেন। তাদের অবস্থা যেন অনেকটা জল ছাড়া মাছের মতো। তারাই এখন সরব হয়েছেন। তাদের দুঃখ একাধিক।

প্রথম দুঃখ, কেন আওয়ামী লীগ সরকার এতদিন ধরে ক্ষমতায় আছে। দ্বিতীয় দুঃখ, কেন আওয়ামী লীগ সরকারকে আন্তর্জাতিক মহল এত সমর্থন দিচ্ছে। তৃতীয় দুঃখ, কেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। চতুর্থ দুঃখ, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে সমস্ত ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হচ্ছে সেগুলো কেন কাজ কার্যকর হচ্ছে না। আর পঞ্চম দুঃখ হলো, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কেন জ্বালাও পোড়াও হরতাল সহিংস রাজনীতি করতে পারছে না।

এসব দুঃখ প্রকাশ এখন আর গোপন নয়, এখন তারা প্রকাশ্যেই আর্তনাদ করেন। তবে এই আর্তনাদের কিছু অশুভ ইঙ্গিতও বহন করে। তারা এ ধরনের কথা বলছেন শুধু হতাশা থেকে নাকি রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন বা একটি অস্থির পরিস্থিতির পটভূমি রচনা করছেন সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার।

আর এ কারণেই ডা. জাফরুল্লাহ, কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইবরাহিম এবং ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবদের ওপর লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। কারণ এরা যখন নড়াচড়া করে তখন বাংলাদেশ শঙ্কিত হয়। বাংলাইনসাইডার।

সর্বশেষ নিউজ