২৩, সেপ্টেম্বর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

কে হচ্ছেন আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক?

দলে গ্রুপিংয়ের কারণে চেইন অফ কমান্ড ভেঙে যাওয়াসহ নানান কারণে আওয়ামী লীগ তার নির্ধারিত কাউন্সিল অধিবেশনের আগেই করে ফেলতে পারে। এরকম আগে গুঞ্জন ছিল এখন এ নিয়ে রীতিমতো আলাপ আলোচনা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতার মতে, একটি আগাম কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের গ্রুপিং এবং বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। প্রেসিডিয়াম সদস্যদের কয়েকজনের মতে, করোনার কারণে যে প্রায় এক বছর ধরে রাজনৈতিক তৎপরতা থমকে ছিল, সেই স্থবিরতা কাটিয়ে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন কাউন্সিল এর বিকল্প নেই।

আওয়ামী লীগের একজন প্রবীণ নেতা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলে বিভক্তি, দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের ফ্রি স্টাইল কথাবার্তা, অনু-প্রবেশকারীদের দাপট, এবং নানা রকম অপ তৎপরতার কারণে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আকস্মিকভাবে দলের কাউন্সিল করতে পারেন।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এর ভূমিকা নিয়ে দলের ভেতরে নানারকম আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে তার ছোটভাই কাদের মির্জা দলের জন্য বড় ধরণের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই ক্ষেত্রে দলের সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা নিয়েও আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা প্রশ্ন করছেন।

ওবায়দুল কাদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে আছেন এবং আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাই মনে করছেন, এটিই হয়ত তার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শেষ মেয়াদ। এরপর হয়তো আওয়ামী লীগ নতুন একজন সাধারণ সম্পাদক বেছে নেবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের মাধ্যমেই একজন সাধারণ সম্পাদক চূড়ান্ত করবেন।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের দায়িত্ব পালনকালে নোয়াখালীর সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা, দলের ভেতর নানা রকম গ্রুপিং, বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি এবং তার ভাইয়ের ঘটনার প্রেক্ষিতে একজন নতুন সাধারণ সম্পাদক নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে জোর আলোচনা এবং গুঞ্জন চলছে। কে হতে পারেন আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক, এ নিয়ে ফিসফাস চলছে।

কাউন্সিল আগেই হোক বা পরে, আগামী বছর আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে যে একজন নতুন সাধারণ সম্পাদক পাবে এটি নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংশয় নেই। আর সেজন্য এখন থেকেই এ নিয়ে নানারকম তৎপরতা দৃশ্যমান হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তির নাম আলোচনায় উঠে আসছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঝে বিভিন্ন আলোচনায় ঘুরে ফিরে যাদের কথা শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে দুজন প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং তিনজন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। এই কয়েকজনের মধ্যে রয়েছেন-

জাহাঙ্গীর কবির নানক: ওবায়দুল কাদের এর পরে কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হবে এরকম আলোচনায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতার প্রথম পছন্দ হলো জাহাঙ্গীর কবির নানক। জাহাঙ্গীর কবির নানক ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন, যুবলীগের নেতা ছিলেন, ২০১৮ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন না পেয়েও তিনি দলের সভাপতির প্রতি আস্থা রেখেই কাজ করছেন। এ জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

তিনি প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি কর্তৃক। দলের বিশ্বস্ত এবং ত্যাগী নেতাদের মধ্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক অন্যতম। সারাদেশের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জনসংযোগ যোগাযোগ এবং শেখ হাসিনা আস্থার কারণে জাহাঙ্গীর কবির এর নাম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

ড. আব্দুর রাজ্জাক: আরেকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাকের নামও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় আছে। ড. আব্দুর রাজ্জাক একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। উচ্চশিক্ষিত, ভদ্র, পরিশ্রমী, অত্যন্ত ঠান্ডা মেজাজের এবং দলের বাইরেও বিভিন্ন মহলে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কিন্তু দলের তৃণমূলের মধ্যে তার যোগাযোগ অতটা শক্ত নয় বলেই আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন।

মাহবুব উল আলম হানিফ: হানিফ দীর্ঘদিন ধরে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সঙ্গে দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের দূরত্বের কথা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহলে শোনা যায়। হানিফ আওয়ামী লীগ সভাপতির আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সারাদেশে তৃণমূল এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা, জনসংযোগ ইত্যাদি নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতা কি না এ নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন।

ডা. দীপু মনি: ডা. দীপু মনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। দলের অনেকেই মনে করেন, অনেকদিন পর আওয়ামী লীগ হয়তো একজন নারী সাধারণ সম্পাদক পেতে পারে। ডা. দীপু মনির দল এবং দলের বাইরে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় সংগঠন এখন নানা রকম বিভক্তি ও গ্রুপিংয়ে বিভক্ত, সেই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি কতটা দায়িত্বশীল হতে পারবেন, কিংবা মন্ত্রীত্বের পাশাপাশি দলের জন্য কতটা সময় দিতে পারবেন- এ বিষয়টিও ভাবতে হবে।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: বাহাউদ্দিন নাছিম তৃণমূল থেকে ধাপে ধাপে উঠে আসা একজন রাজনীতিবিদ। দলের কর্মীদের সঙ্গে তার রয়েছে নিবিড় যোগাযোগ। একসময় তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ছিলেন। সেজন্য সারাদেশে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার সুস্পষ্ট একটি ধারণা রয়েছে। বাহাউদ্দিন নাছিম আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হলেও তিনি গত নির্বাচনে মনোনয়ন ব’ঞ্চিত হয়েছেন।

কিন্তু শেখ হাসিনার আস্থাভাজন এবং ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। সংগঠনের ত্যাগী, পরীক্ষিত নেতা হিসেবে তার সুনামও রয়েছে। কিন্তু বাহাউদ্দিন নাছিম ব্যক্তি হিসেবে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ। দলের নেতারা জানেন, নাছিম আবেগের কারণে মাঝে মাঝে রেগে যান, উত্তে’জিত হন। সাধারণ সম্পাদক হতে হলে আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে।

এই ৫ জনের মধ্যে থেকে, নাকি তাদের বাইরে কেউ সাধারণ সম্পাদক হবেন তা নিশ্চিত নয়। দলের সাধারণ সম্পাদক হবেন সভাপতির পছন্দের ব্যক্তি। বাংলাইনসাইডার।

সর্বশেষ নিউজ