২২, সেপ্টেম্বর, ২০২১, বুধবার

কে হচ্ছেন নতুন দুদক চেয়ারম্যান?

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুই কমিশনারের কার্যকাল আগামী ১৪ মার্চের ম‌ধ্যে শেষ হচ্ছে। তাদের স্থলে নিয়োগ পাচ্ছেন ‍নতুন দুজন। তিন সদস্যের কমিশন থেকে প্রেসিডেন্ট একজনকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেবেন।

দুদক সূত্রে জানায়, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব ইকবাল মাহমুদ, দুই কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ এ এফ এম আমিনুল ইসলাম এবং (অব) সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হকের সমন্বয়ে বর্তমান কমিশন গঠিত। এরমধ্যে চেয়ারম্যান পদে থাকা ইকবাল মাহমুদ এবং এএফএম আমিনুল ইসলামের কার্যকাল শেষ হবে আগামী ১৩ মার্চ। দুজন চলে গেলে কমিশনার হিসেবে থাকবেন ডক্টর মোজাম্মেল হক। বিদায়ী ২ কমিশনারের স্থলাভিষিক্ত হবেন সার্চ কমিটির বাছাইকৃত নামের মধ্য থেকে যেকোনও দুজন।

নতুন দুজনকে নিয়োগের পর কমিশ‌নের মধ্যে থেকে প্রেসিডেন্ট দুদক আইন ২০০৪ এর ৫(১) ধারায় যেকোনও একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেবেন। চেয়ারম্যানের মর্যাদা এবং সুযোগ-সুবিধা আপিল বিভাগের বিচারপতির সমান।

দুর্নীতিবিরোধী একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুদক। এই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পদে কে নিয়োগ পাচ্ছেন, কে হচ্ছেন কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান, এ নিয়ে কৌতুহল রয়েছে সব মহলে।

দুদক আইনে কমিশনার পদে নিয়োগের যোগ্যতা নির্ধারণ করা আছে। আইনটির ৮(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘আইনে, শিক্ষা, প্রশাসনে, বিচার এবার শৃঙ্খলাবাহিনীকে অনন্য ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনও ব্যক্তি কমিশনার হইবার যোগ্য হইবেন।’

নতুন দুদক কমিশনার হিসেবে কিছু নাম হাওয়ায় ভাসছে। এর মধ্যে রয়েছেন, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত ইকবাল করিম ভূঁইয়া, এনবিআর’র সাবেক চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত আইজি জাবেদ পাটোয়ারী, অবসরপ্রাপ্ত বেসামরিক বিমান সচিব মহিবুল হক, অবসরপ্রাপ্ত সচিব এম এ করিম এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব ড. এম আসলাম আলম। বাছাই কমিটি তাদের কারও কারও সঙ্গে যোগাযোগও করছেন বলে জানা গেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ড. মোজাম্মেল হকের সম্ভাবনা বেশি। কারণ তিনি সিনিয়র। এছাড়াও নাজমুন আরা সুলতানা কে দিয়েও চেয়ারম্যান প্রার্থী অলঙ্কৃত করা হতে পারে। অপরদিকে সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে নিয়োগপত্রের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর এর মধ্য দিয়ে।

২০১৬ সালের ১০ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ইকবাল মাহমুদকে দুদকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়। ওই প্রজ্ঞাপনেই অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ এ এফ এম আমিনুল ইসলামকে কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের কর্মকর্তা ইকবাল মাহমুদ দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব থাকাবস্থায় ২০০৮ সালের জুন মাসে পদোন্নতি পেয়ে সচিব হন ইকবাল মাহমুদ। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তাকে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের (বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) সচিব করা হয়। এরপর ২০১২ সালে তার ‘সিনিয়র সচিব’ নামে নতুন পদ সৃষ্টি করলে আরও ৭ জনের সঙ্গে ইকবাল মাহমুদও ওই পদ পান। তখন তিনি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব। ওই বছরই নভেম্বরে তিনি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বিকল্প নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পান।

এদিকে তৎকালীন দুদক কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মো. সাহাবুদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন বর্তমানে দুদক কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা এ এফ এম আমিনুল ইসলাম।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ ও কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলামের দুই পদে নিয়োগের জন্য ২০১৬ সালের ২ ফেব্রুয়রি আপিল বিভাগের তৎকালীন বিচারপতি (বর্তমানে প্রধান বিচারপতি) সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছিলেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সর্বশেষ নিউজ