১৩, জুন, ২০২১, রোববার

ক্ষমতা দখল করা অপরিহার্য ছিল- দাবি মিন অং হ্লাইংয়ের

সামরিক অভ্যুত্থান অপরিহার্য ছিল বলে দাবি করলেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) এমনটাই দাবি করেছেন তিনি। দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এ কথা বললেন তিনি।

সেনাবাহিনীর ফেসবুক পাতায় সেনাপ্রধানের যে বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, ‘বহুবার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। সে কারণেই আমরা এই পথ বেছে নিতে বাধ্য হলাম।’

গত বছর নভেম্বরের মিয়ানমারে নির্বাচনে জালিয়াতি নিয়ে সু চির সরকার এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে একটা টানাপোড়েন চলছিল। ওই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয় সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি)।

সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সংসদের অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সেনা অভ্যুত্থান ঘটে। সোমবার মিয়ানমারে হঠাৎ দেশের ক্ষমতা দখলে নেয় সেনা। অং সান সু চি এবং এনএলডির বহু নেতাকে আটক করে তারা।

প্রায় ১৫ বছর গৃহ অন্তরীণ কাটিয়ে ২০১৫ সালে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে দেশের নেত্রী নির্বাচিত হন সু চি। কিন্তু দেশের পশ্চিমে রাখাইন প্রদেশ থেকে রোহিঙ্গা উচ্ছেদ এবং গ- হ’ত্যার অভিযোগে ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক মহলে সু চির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। তবে দেশীয় রাজনীতিতে আগের মতোই জনপ্রিয়তা ছিল তার।

এদিকে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝে সংবিধান এবং আইন রক্ষার দায়িত্ব তাদের হাতেই বলে শনিবার ঘোষণা করে সে দেশের সেনাবাহিনী। তার পর থেকেই অভ্যুত্থানের আশ’ঙ্কা করা হচ্ছিল। পরে যা সত্যি হয়।

‘মিয়ানমারের কয়েকশ এমপি খোলা আকাশের নিচে আটকে অবস্থায়’

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যু’ত্থানের পর দেশটির কয়েকশ সংসদ সদস্যকে রাজধানী নেপিদোর খোলা আকাশের নিচে আটকে রাখা হয়েছে। ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রসির নেত্রী অং সান সুচিসহ দেশের প্রেসিডেন্ট ও বহু সরকারি কর্মকর্তাকে আটকের একদিন পর সংসদ সদস্যদের আটক করে খোলা আকাশের নিচে রাখা হয়।

মঙ্গলবার প্রকাশিত গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, অন্তত আরও ৪০০ সংসদ সদস্যকে তাদের সরকারি বাসভবন কমপ্লেক্সে আটকে রাখা হয়েছে এবং তাদের বাইরে যাওয়া আসার অনুমতি দেয়া হচ্ছে না।

কয়েকজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, বাসভবন কমপ্লেক্সের ভেতরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বাইরের সেনা সদস্যরা টহল দিচ্ছে। সেনাবাহিনী তাদের ট্রাক দিয়ে সংসদ সদস্যদের যাওয়া আসার পথ আটকে দিয়েছে। সংসদ অধিবেশনের সময় এসব সংসদ সদস্য ওই বাসভবনে অবস্থান করেন।

কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আটকে থাকা সংসদ সদস্যরা নিদ্রহীন রাত কাটিয়েছেন এবং তারা এই চিন্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন, তাদের অন্য কোনো স্থানে নেয়া হতে পারে। অং সান সুচি এবং প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ যেসব নেতাকে আটক করা হয়েছে তাদের কোথায় রাখা হয়েছে এখনো তা পরিষ্কার নয়।

সর্বশেষ নিউজ