১৩, জুন, ২০২১, রোববার

খোকসা সমাজসেবা অফিসের সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী বিকাশ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ভাতাভোগীর বই ঠিকঠাক করা ও একাউন্ট হালনাগাদ, শ্রীলতাহানিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার খোকসা পৌরসভা এলাকায় সরেজমিন গেলে এমন অভিযোগ করেন ভাতাভোগীরা।

জানা গেছে, বিকাশ কুমার সরকার একজন ইউনিয়ন সমাজকর্মী হলেও আচার আচরণ করেন অফিসারের মত। নামধারী অফিসার সেজে যেন তার নানা অনিয়মের দৌরাত্ম্যে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।এতে একদিকে যেমন হয়রানি ও বিরম্বনার স্বীকার হচ্ছে ভাতাভোগীরা।অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ও সামাজিক ভাবে হেয়প্রতিপণ্য হচ্ছেন ভাতাভোগীরা।জানা গেছে, চা পান বিড়ি খাওয়ার টাকা দিলেই মেলে খোকসা সমাজসেবা অফিসের সেবা।টাকা ছাড়া ভোগান্তির শেষ নেই ভুক্তভোগীদের।আরো জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভাতাভোগীদের টাকা সরাসরি গ্রাহকদের নিকট পৌছে দিতে শুরু হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং (নগদ) এ্যাকাউন্ট খোলার কাজ।এ্যাকাউন্ট খুলতে বিকাস কুমার সরকারের বিরুদ্ধে ২০০ থেকে ৩০০ চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ করেন ভাতাভোগীরা।চাদা না দেওয়ায় একজন মহিলাকে মাটিতে ফেলে দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বিকাস।সেসময় প্রতিবাদ করায় একজন কাউন্সিলের নামে মিথ্যা মামলা টুকে দেন বিকাস।

এবিষয়ে পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ভাতাভোগী সাবেরা খাতুন (৫০) বলেন, ভাতার কার্ড নিয়ে গেলাম সমাজ সেবা অফিসে, সেখান থেকে একজন বলল টাকা আনছেন, আমি বললাম না। এরপর সে বলল, বিকাশের কাছে যান, তারপর বিকাসকে দেড়শ টাকা দেওয়ার পর সীল মেরে আমার বই ফেরত দেয়। একই অভিযোগ পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বৃদ্ধ রবিউল ইসলাম (৫৫) ও সেলিনা খাতুনেররও । তারা বলেন, হয়রানীর শিকার হয়ে আসছি সমাজসেবা অফিসের বিকাস কর্তৃক।টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেনা সে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন ভাতাভোগী বলেন , প্রথম বার কাগজ পত্র জমা দিয়াম, তার কিছুদিন পরে আবার গেলে বিকাস বলল আপনার কাগজ পত্র হারিয়ে গেছে। আবার পয়সাকড়ি খরচ করে কাগজ পত্র জমা দিছি। এইবার বই দিয়েছে ঠিকই কিন্ত আমি সোনালী ব্যাংক খোকসা শাখার আওতাভুক্ত আর আমাকে পাঠাইছে শোমসপুর শাখায়। তারা বই দেখে ফিরিয়ে দিলে অফিসে গিয়ে ঠিক করে নেওয়ার কথা বলেন। ঠিক করতে সমাজ সেবা অফিসে এসে মহিলা অফিসারে কাছে যায়, তিনি তখন বিকাস ডেকে বেশ রাগ করে বললেন, ‘তুমি এইভাবে মুরব্বি মানুষকে ঘুরাইছ কেন? এরপর বই ঠিক করে নেওয়ার সময় অফিসারকে বিষয়টি বলায় খারাপ আচারণ করেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে আরেকজন বয়স্ক ভাতাভোগী বলের, আমারসাথে দুর্বব্যহার এবং কয়েকজন মহিলা ভাতাভোগীদের ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় বিকাশ কুমার সরকার।এর প্রতিবাদ করায় পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসেম আলীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে বিকাস।
এবিষয়ে কাউন্সিলর হাসেম আলী বলেন, বিকাসের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ।সেদিন প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে সে।

অভিযোগের কথা অস্বীকার করে ইউনিয়ন সমাজকর্মী বিকাস কুমার সরকার বলেন, আমি অসুস্থ আছি, পরে কথা বলব।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাম্মী আকতার যুথী বলেন, কারও সাথে আমাদের বিরোধ নেই। বিকাস নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।বিকাসের বিরুদ্ধে কেউ কখনও কোনো অভিযোগ দেয়নি।লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ নিউজ