২৪, জুন, ২০২১, বৃহস্পতিবার

গোসাইরহাটে ১০ কোটি টাকার কাজে ধীর গতি, ধুলায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী!

নাছির আহম্মেদ আলী,শরীয়তপুর: শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কালিখোলা বাজার থেকে নাগেরপাড়া-ধানকাঠি হয়ে সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের বালারবাজার পর্যন্ত সড়কটির সংস্কার কাজে ধীর গতির কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। শরীয়তপুরের তিন উপজেলার উপর দিয়ে তৈরি করা প্রায় ২০ কি.মি. এই ভাঙ্গা সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচলে ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় পুরো এলাকা বলে এলজিইডি’র গোসাইরহাট উপজেলা প্রকৌশলী দশরথ কুমার বিশ্বাস জানিয়েছে। অন্যদিকে যানবাহনের তীব্র ঝাকুনি আর ধুলায় নাকাল হয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী সাধারণকে চলাচল করতে হয় বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। চাঁকা পিছলে যেকোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। আর চিকিৎসকদের মতে এতে রয়েছে তীব্র স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট, ডামুড্যা ও সদর উপজেলার উপর দিয়ে তৈরি করা প্রায় ২০কি.মি. সড়কটির দুপাশের গাছপালা, ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে ধুলাবালির লাল আস্তর পরে আছে। যানবাহন আসা-যাওয়া করলেই দেখা যায় ধুলার পাহাড়। সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করা মানুষের শরীরে ধুলার লাল আস্তর পরে যায়। ধুলাবালির হাত থেকে রক্ষা পেতে কোন কোন দোকানদার দোকানের সামনে কাপড় বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে ধুলার হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে তাদের বাড়ি বা দোকানের সামনের রাস্তায় পানি দিয়ে ধুলার হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। কিছু কিছু জায়গা ছাড়া সড়কটির বেশিরভাগ স্থানের খোয়াগুলোকে রোলার দিয়ে সমান করা হয়নি। এর ফলে যানবাহনগুলো হেলে দুলে চলাচল করে।

স্থানীয় ও প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, গত ২০২০ সালের জানুয়ারীতে রুরাল কানেকটিভিটি ইমপ্রভমেন্ট প্রজেক্টের (আর.সি.আই.পি) আওতায় প্রায় ১০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সাংসদ নাহিম রাজ্জাক। কিন্তু শুরু হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় কাজ। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকলেও কর্তৃপক্ষ বলছে বর্তমানে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু সড়কের সংস্কার কাজ কোথাও তেমন চোখে পড়েনি। শুধুমাত্র কিছু এলাকায় সড়কটির দুপাশে মাটি ফেলার কাজ চলছে যা খুবই ধীর গতিতে। তবে সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়ন অংশের সড়কের ধুলা রোধে পাম্প মেশিন দিয়ে পানি দেয়া হলেও ডামুড্যা ও গোসাইরহাট অংশের সড়কে পানি দেয়া হচ্ছে না।

কালিখোলা রফিকুল ইসলাম জুসিরগাঁও এলাকার সুশিল মন্ডল, নাগের পাড়া ও মুন্সিরহাট বাজারের ব্যবসায়ীগণ জানান, গোসাইরহাট থানার কালিখোলা বাজার থেকে নাগেরপাড়া হয়ে শরীয়তপুরের বালার বাজার পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার কাজটি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদাররা এভাবে ফেলে রেখেছে। তাতে করে এ রাস্তাটিতে প্রতিদিন চলাচলরত হাজার হাজার লোকের জনজীবন ধুলায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এলাকার মানুষের এই কঠিন দূর্ভোগের কথা সংশ্লিষ্ট কেউই গুরুত্ব দিচ্ছে না। জনপ্রতিনিধিরাও এ ব্যাপারে চুপচাপ রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল রহমান, জাকির কাজী, সুমন শিকদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটি ভাঙ্গা ছিল। বছরখানেক আগে সড়কটি সংস্কার কাজ শুরু হয়। সড়কের দুপাশের পুরনো ইট তুলে এবং পূর্বের ভাঙ্গা পিচ এক্সকাভেটর দিয়ে তুলে সেগুলো ভেঙ্গে সড়ক মেরামতের কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে কিছুদিন পরেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

জুসিরগাঁও এলাকার ইজিবাইক চালক রফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙ্গা রাস্তায় ইটের খোয়ার উপর দিয়ে গাড়ি চালাতে খুব কষ্ট হয়। চাকা পিছলে দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা থাকে। ধুলায় পুরো গাড়ি ঢেকে যায়। যাত্রীরাও বিরক্ত হয়ে সংশ্লিষ্টদের গালাগাল করে।
মুন্সিরহাট এলাকার ভ্যানচালক কাশেম সরদার জানান, সকাল থেকে গাড়ি চালানোর কিছুক্ষণ পর ধুলাবালির কারণে খুশখুশি কাশি শুরু হয়েছে। ধুলার কারণে অস্থির হয়ে পড়েছি। রাস্তা খারাপ হওয়ায় শত শত মানুষের সমস্যা হচ্ছে। রাস্তার পাশের গাছপালা, ফল-ফলাদি ও শাক-সবজি সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নাগেরপাড়ার বাসিন্দা মামুন সরদার বলেন, শরীয়তপুর শহর থেকে নাগেরপাড়া আসার সময় রাস্তার ধুলার কারণে মটরসাইকেলের পরিবর্তে বাসে যাতায়াত করলাম। কিন্তু তারপরও বাসের যাত্রীদের সবাই ধুলায় লাল হয়ে গেছি।

গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হাফিজুর রহমান বলেন, ধুলাবালি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। সামান্য পরিমাণ ধুলাও তাৎক্ষণিক সমস্যা করতে পারে। চোখ জ্বালাপোড়া, কাশি, হাঁচি, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, হাঁপানি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। আবার যাদের আগে থেকেই ফুসফুসের সমস্যা আছে, তাদের অল্পতেই সমস্যা জটিল করে তুলতে পারে। সবার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সমস্যা না করলেও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা করতে পারে।

সড়কটির কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হামীম ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারি অকু মিয়াকে মুঠোফোনে পাওয়া না গেলেও কাজটির দেখা শোনার দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদার। এদের মধ্যে গোসাইরহাট অংশের ঠিকাদার মাসুদুর রহমান মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, আগামী দু-এক সপ্তাহের মধ্যে কার্পেটিং এর কাজ শুরু হবে এবং আশা করছি মার্চের মধ্যে কাজ শেষ হবে। ধুলাবালি রোধ করতে আগামী শুক্রবার থেকে পানি দেয়া শুরু করবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডি’র গোসাইরহাট উপজেলা প্রকৌশলী দশরথ কুমার বিশ্বাস বলেন, সড়কটির কাজ শেষ করার সময়সীমা আগামী জুন পর্যন্ত। যেহেতু হাতে সময় আছে তাই হয়তো সড়কটির কার্পেটিং এর জন্য মালামাল আনতে একটু দেরি হচ্ছে। তবে ধুলাবালি রোধ করতে প্রতিনিয়ত ঠিকাদারকে রাস্তায় পানি দেয়ার জন্য বলছি।

সর্বশেষ নিউজ