১৭, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

চলে গেলেন গুনী চিত্রগ্রাহক আখতার হোসেন

অতি নিরবে-নিভৃতে চলে গেলেন গুনী চিত্রগ্রাহক আখতার হোসেন।গত ২ আগস্ট ২০২১ সোমবার, বিকাল ৬:১৫ মি: সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি ( ইন্নালিল্লাহি…. রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। কয়েক দিন আগে আশুলিয়ায় তাঁর নিজ বাসায় ব্রেইন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পরলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে অনন্তলোকে পাড়ি দেন, একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত গুনী চিত্রগ্রাহক আখতার হোসেন। সেদিন রাতেই জানাজা শেষে তাঁকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

১৯৪৬ সালের ৩০ আগস্ট, কুমিল্লার কাদিরখালিতে, জন্মগ্রহণ করেন আখতার হোসেন। নায়ক রহমান পরিচালিত ‘মিলন’ ছবির সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসেবে, প্রথমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন তিনি। চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের ‘Let there be light’ চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রহণের সাথেও জড়িত ছিলেন তিনি।
ছবিটি শেষ হওয়ার আগেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় এবং পরবর্তিতে জহির রায়হান অন্তর্ধান হয়ে যাওয়ার কারনে এই চলচ্চিত্রটি আর শেষ করে মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়নি।

আখতার হোসেন যেসব চলচ্চিত্রে চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- চাবুক, কার হাসি কে হাসে, বাঘা বাংগালী, অরুনোদয়ের অগ্নিস্বাক্ষী, আকাঙ্ক্ষা, নোলক, বসুন্ধরা, রেশমিচুড়ি, নাগীন, মাসুদ, ঈদ মোবারক, নতুন পৃথিবী, মৎসকুমারী, আগুনের পরশমনি, এখনো অনেক রাত, হঠাৎ বৃষ্টি, নাচোলের রানী, প্রভৃতি ।

আখতার হোসেন বেশ কিছু টেলিভিশনের নাটক ও বিজ্ঞাপনের চিত্রগ্রহণ করেছেন।

একাধিকবার শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগ্রাহক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন আখতার হোসেন।

অসম্ভব প্রচারবিমুখ, নিভৃতচারী একজন আদর্শবান ব্যক্তিত্ব ছিলেন আখতার হোসেন। ছিলেন সৃজনশীল চলচ্চিত্রগ্রাহক।
কাজ করেছেন প্রখ্যাত সব চলচ্চিত্রকারদের সাথে, অনেক বিখ্যাত চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রাহক ছিলেন তিনি। আমাদের চলচ্চিত্র তথা শিল্প-সংস্কৃতি ভুবনের গুণী মানুষ আখতার হোসেন, তাঁর সৃজনশীল কর্মের মাধ্যমে আমাদের স্মৃতিতে বেচেঁ থাকবেন অনন্তকাল।

সর্বশেষ নিউজ