২৮, অক্টোবর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

চোখ রাঙাচ্ছে করোনা, স্বাস্থ্যবিধিতে অনীহা

করোনা ভাইরাসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেট। সংক্রমণের হারও ঊর্ধ্বমুখী। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা দেড় প্রায় শতাধিক। মৃতের সংখ্যা তিনশোর কাছাকাছি। হাসপাতালগুলোতে রোগী সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে নার্স-চিকিৎসকদের। ফাঁকা নেই আইসিইউ বেড। তবুও মাঠে-হাটে জনস্রোত। স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। লকডাউন চললেও সব কিছুই চলছে স্বাভাবিকের মতোই। প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে লোকজনও বাইরে বেরুচ্ছে। মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

বুধবার (৭ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সুলতানা রাজিয়া জানান, গত চব্বিশ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে করোনায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৪২ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬৫ জন। সব মিলিয়ে আজ পর্যন্ত সিলেটের চার জেলায় করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৩৮ জনে। মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯৫ জনের। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৯০ জন।

এদিকে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে তৃতীয় দিনের মতো লকডাউন পার করছে সিলেটের মানুষ। হাট বাজার থেকে শুরু করে রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকান; সবখানেই মানুষের জটলা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ করার কথা থাকলেও তা মানছেনা ব্যবসায়ীরা। এমনকি চায়ের দোকানগুলোতে দিনে রাতে পাল্লা দিয়ে চলে আড্ডা। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা থেকে বাচতে হলে মানুষকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। মানতে হবে সরকারি বিধিনিষেধ। না হলে করোনাশ আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে। এব্যাপারে প্রশাসনকেও আরো কঠোর হতে হবে বলে মত তাদের।

বুধবার (৭ এপ্রিল) সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন একলা ঘুরে দেখা যায়, কেবল শপিংমল ছাড়া সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। রেস্টুরেন্টগুলো শুধুমাত্র পার্সেল বিক্রি করার কথা থাকলেও অধিকাংশই তা মানছেন না। রেস্তোরাঁয় বসেই লোকজন খাবার খাচ্ছে। মানা হচ্ছেনা স্বাস্থ্যবিধি।

এদিকে বুধবার ভোরে সিলেটের সব রুটে বাস চলাচল শুরু হলেও প্রশাসনের অনুরোধে ফের বন্ধ করা হয়েছে। সকাল ১১ টার দিকে পুলিশ প্রশাসনের অনুরোধে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়। দুপুরে ব্রেকিংনিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিত।

তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা আজ ভোর থেকে সিলেটের আঞ্চলিক সড়কে বাস চলাচল শুরু করি। পরে পুলিশ প্রশাসন বাস চলাচল বন্ধের অনুরোধ জানালে আমরা তা বন্ধ করে দেই। এর আগে মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে সিলেটের আঞ্চলিক সড়কে বাস চলাচলের ঘোষণা দেন শ্রমিকেরা।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের জানান, স্বাস্থ্যবিধি মানাতে আমাদের প্রতিটি থানার ওসি, ফাঁড়ি ইনচার্জদের সমন্বয়ে গঠিত টিম বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে। সন্ধ্যা ৬টার পরপরই অভিযান পরিচালনা করে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে। পুলিশ সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করছে।

সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মহানগর এলাকায় ৪৩টিসহ জেলা প্রশাসনের ১৬টি টিম ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করেছে। প্রতিদিনই মামলা-জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। লোকজনকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ নিউজ