৭, জুলাই, ২০২২, বৃহস্পতিবার

জাজিরায় অবৈধ্য ড্রেজার বন্ধে উপজেলা প্রশাসনকে লেখিত অভিযোগেও থামছেনা বালু উত্তোলন, প্রশাসন নিরব

সজীব সিকদারঃ জেলার জাজিরা উপজেলার খাল,পুকুর,ফশলি জমি ও পদ্মা শাখা নদী থেকে,বছরের পর বছর ধরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে বসতবাড়ি,রাস্তাঘাট সহ বিভিন্ন স্থাপনা ধসে যাচ্ছে এবং হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ।
পূর্ব নাওডোবার ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড এরম মঙ্গল খার কান্দি দিয়ারা জরিপী ৯৭ নং দিয়ারা গোপালপুর মৌজার ১০৩ নং ১৪৪৪/১৪৪৫/১৪৬/১৪৪৭/১৪৫৭/১৪৫৮-নং দাগের ফসলি জমিতে জোরপূর্বক ভাবে বালু উত্তলন করছেন চিনহিত বালু দস্যু চানমিয়া বয়াতী। এই ব্যাপরে অভিযুক্ত ফসলি জমির মালিক ইব্রাহিম বেপারী–জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহ কারী কমিশনার ভূমি-এর কাছে গিয়ে লেখিত অভিযোগেও রক্ষা হচ্ছেনা তার জমি।

স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব কোপা ড্রেজার দিয়ে গ্রামাঞ্চলের খাল, বিল,পুকু,ফসলি জমি,নদী থেকে যত্রতত্র ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করায় আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। বছরের পর বছর ধরে ড্রেজার মালিকরা এ অবৈধ কাজটি করলেও প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই। শরীয়তপুর জেলায় ছয় উপজেলা পাচ উপজেলায় এই অবৈধ্য ড্রেজার বন্ধ করতে সক্ষম হলেও এই জাজিরা উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক কোপা ড্রেজার বন্ধে নেই কোনো উদ্যোগ।

জানা গেছে, ড্রেজার দিয়ে উত্তোলনকৃত বালুর বেশিরভাগই স্থানীয় ঠিকাদাররা তাদের নির্মাণ কাজে ব্যবহার করে। সড়ক ও সরকারি স্থাপনার মেঝে ভরাট করা হচ্ছে এ বালু দিয়ে। ভূগর্ভস্থ এ বালুতে কাদামাটির পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে মাটি মিশ্রিত এ বালু দিয়ে তৈরি সড়ক ও স্থাপনা টেকসই না হওয়ায় প্রতিবছর সরকারের উন্নয়ন কাজের কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে। তাছাড়া কম খরচে ও সহজ পদ্ধতিতে বালু পাওয়ায় ঠিকাদারদের পাশাপাশি বসতবাড়ি নির্মাণেও অনেকে পরিবেশ বিধ্বংসী এই ড্রেজার ব্যবহার করছে। এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানালেও তা কোনো কাজে আসছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলটির বিভিন্ন স্থানে এভাবে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কাজ চলমান রয়েছে। অবৈধ মেশিনগুলোর মালিকরা ঘুরে ঘুরে গ্রামের পরিত্যক্ত খাল, ডোবা ও পুকুর থেকে বালু উত্তোলন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধ শতাধিক ড্রেজার রয়েছে। ডাক পড়লেই মেশিনপত্র নিয়ে গ্রামের আনাচে কানাছে ছুঁটে যাচ্ছে এসব ড্রেজার মালিকও শ্রমিকরা। আর ড্রেজার মালিকরা বেশির ভাগই দিনমজুর কৃষক ছিলেন এখন এই অবৈধ্য ড্রেজার চালিয়ে তারা এখন নামি দামী ব্রান্ডের মটর সাইকেল ও বিলাশ বহুল জিবন জাপন করে বেরাচ্ছেন। সম্প্রতি এসব ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও বতসবাড়ি দেবে যাওয়ার বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয় জজিরা উপজেলার সহকারী কমিশনার(ভূমি) রাফে মোহাম্মদ,কে এই প্রতিনিধি বিষটি নিশচিত করলে কোনো সুফল মিলছে না।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আশরাফুজ্জামান ভূইয়া জানান, এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ নিউজ