৫, জুলাই, ২০২২, মঙ্গলবার

জাজিরায় নতুন ঘাট প্রস্তুত, দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ ফেরির অপেক্ষায়

নাছির আহম্মেদ আলী, শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরের জাজিরায় নতুন ফেরি ঘাট নির্মান করলেও ঘাটে এখন ও নেই কোন ফেরি। দেশের দক্ষিন পশ্চিাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ ফেরির অপেক্ষায়। যদি ও বি আই ডব্লিউ টি এ কর্তৃপক্ষ বলছেন, সিমিত আকারে চলবে গাড়ী। এতে করে অনেকেরই মধ্যে বারতি চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাট থেকে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়ার উদ্দেশে ফেরি চলাচলের করার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে সিন্ধান্ত গ্রহনে চলছে উচ্চ পর্যায়ে মিটিং বলে নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ ইনাম জানিয়েছেন। এতে করে শরীয়তপুরবাসীর মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডবিউ টিএ) ও স্থানীয়র সুত্রে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মঙ্গলমাঝির ঘাটে নতুন করে ফেরিঘাট নির্মাণের কাজ শুরু করে। এখানে ফেরিঘাট সচল করার জন্য পন্টুন স্থাপনসহ বৃহস্পতিবার এ নৌরুটে ফেরি চলাচলের যাবতীয় কাজ ছোট আকারে একটি অস্থায়ী ফেরিঘাট নির্মান কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। করে নাগাদ ফেরী চলাচল করবে তা জানা যায়নি। নতুন এ ঘাটে ছোট ব্যক্তিগত গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স, সরকারি দপ্তরের জরুরি গাড়ি পারাপার করা হবে। ঘাটের জন্য একটি রো রো ফেরির পন্টুন আনা হয়েছে। এ ঘাটে তিন থেকে চারটি কে টাইপ ফেরি চলাচল করবে। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। ফলে এতে করে অনেকেরই মধ্যে বারতি চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের ট্রাফিক সুপারভাইজার আব্দুল্লাহ ইনাম বলেন, এই রুটে কবে থেকে ফেরি চলাচল শুরু করবে সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত মিটিংয়ের কোন সিন্ধান্ত জানা যায়নি। তবে শুক্রবার মঙ্গলমাঝির ফেরিঘাট উদ্বোধন করা হতে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা। এদিকে মঙ্গলমাঝির ঘাটে ফেরিঘাট স্থানান্তরিত করায় বিপুল উৎসাহ-উদ্দিপনা দেখা দিয়েছে শরীয়তপুরবাসীর মধ্যে।
ফরিদপুর জেলার ড্রাইভার জসিম উদিন বলেন, ভারী যাবাহন বন্ধ থাকায় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সাত্তার মাদবর-মঙ্গল মাঝির ঘাট দিয়ে যাতায়াত করা যাবে না। তাই আমাদের দৌলদিয়া-পাটরিয়া দিয়ে যাতায়াত করতে হবে।

স্থানীয় গাড়ীর ড্রাইভার সোবাহান বেপারী ও আবু তালেফ জানান, সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল করলে আমরা কিভাবে চলবো। তাই আমরা চাই এই রুটে ভারী যানবাহন চলাচল করার উপযোগী করা হোক। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নৌ-মন্ত্রনাণয়কে অনুরোধ করছি।
মঙ্গলমাঝির লঞ্চঘাটের ইজারাদার মোখলেছ মাদবর বলেন, মঙ্গলমাঝির ঘাটে ফেরিঘাট স্থাপন করায় আমরা খুশি। এ অঞ্চলের জন্য যানবাহন চলাচলে নতুন দ্বার উন্মোচন করা হলো। পণ্য পরিবহনসহ নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়বে ব্যবসায়ীদের।
বিআইডব্লিউটিএ’র ঢাকা বিভাগীয় সহকারী কারিগরি প্রকৌশলী ফয়সাল হোসেন জানান, এই নৌপথ দিয়ে ছোট আকারের ফেরিতে শুধু অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি ও সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়ি পারাপার করা হবে। শরীয়তপুরের জাজিরার সড়ক সরু ও ভারি যানবাহন চলাচলের উপযোগী নয় বিধায় এখনই সব যানবাহন চলাচল সম্ভব হবে না। সড়ক প্রশস্ত হলে সব যানবাহন পার করা হবে কি না সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

জানা গেছে, পদ্মা সেতুর পিলারে ফেরি ধাক্কা লাগার কারণে ১৮ আগস্ট থেকে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথ বন্ধ থাকায় এই পথের যাত্রীরা পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ব্যবহার করছেন। বাড়তি চাপে সেখানে তৈরি হচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ২৩ জুলাই নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুর ১৭ নম্বর পিলারের সঙ্গে শাহজালাল নামের একটি রো রো ফেরির ধাক্কা লাগে। এতে ফেরিটির অন্তত ২০ যাত্রী আহত হন। এরপর ৯ আগস্ট বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নামের আরেকটি রো রো ফেরি ১০ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। ১৩ আগস্ট কাকলি নামের একটি ফেরি পুনরায় একই পিলারে ধাক্কা দেয়। তীব্র স্রোতের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ নিউজ