৪, আগস্ট, ২০২১, বুধবার

জেরুসালেমে ইহুদিদের পতাকা মিছিল, হুঁশিয়ারি দিল হামাস

কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থগিত থাকার পর ইসরায়েলি পতাকা নিয়ে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে দেশটিতে। ইসরায়েলের চরমপন্থী ইহুদিদের আয়োজিত এ উসকানিমূলক পতাকা মিছিলের আয়োজনে ছিলেন দেশটির মন্ত্রী ও নেসেট সদস্যরা। ইসরায়েলের পুলিশ তাদেরকে ইসরায়েলি পতাকা হাতে নিয়ে এ মিছিল করার অনুমতি দেয়। এ ধরনের উসকানিমূলক মিছিল আয়োজন করায় ইসরায়েলের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে হামাস। তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভাঙারও হুমকি দিয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেটৎজ শুক্রবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

হারেটৎজের প্রতিবেদন মতে, ইসরায়েলিদের এ পতাকা মিছিল মঙ্গলবার শুরু হবে। শুধু তাই নয়, এ পতাকা মিছিলের আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুসারে, এ মিছিলটি পবিত্র জেরুজালেম শহরের মুসলিম বসতির মধ্য দিয়ে যাবে। তারপর এ মিছিলটি দামেস্ক গেটে পৌঁছবে, মূলত এ এলাকাটি ছিল ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি পুলিশের মধ্যকার সংঘাতের সবচেয়ে উত্তপ্ত স্থান। এ উসকানিমূলক মিছিলটি দামেস্ক গেট থেকে জাফ্ফা গেট পর্যন্ত যাবে। তারপর এ মিছিলটি মসজিদে আল-আকসার পশ্চিম দেয়ালের দিকে অগ্রসর হবে।

পতাকা মিছিলের আয়োজকরা বলেন, ‘এ মিছিল আয়োজনে সহযোগিতা করায় আমরা ইসরায়েলি পুলিশ, পুলিশ কমিশনার আর জেরুজালেম জেলার প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা খুশি যে ইসরায়েলের পতাকাগুলো জেরুজালেমের সব স্থানে গর্বের সাথে উড়বে।’

হারেটৎজ সংবাদপত্রের তথ্যানুসারে ওই মিছিলের আয়োজকরা আরো বলেছেন, ‘আমরা ইসরায়েলের সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা মঙ্গলবার আমাদের সাথে ইসরায়েলি পতাকা নিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। এ মিছিলের মাধ্যমে তারা ইসরায়েলের বীরত্বের প্রশংসা করবেন এবং পবিত্র জেরুজালেম শহরে আনন্দের সাথে নাচবেন।’

এর আগে ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তারা পতাকা মিছিল করবে না। তারা ভয় পাচ্ছিল যে এ ধরনের মিছিল করলে গাজার ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠনগুলো ক্ষিপ্ত হবে। তারা এ মিছিলের জবাবে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে রকেট হামলা করতে পারে বলে তারা শঙ্কিত ছিলেন। পরে চরমপন্থী ইহুদিদের চাপের কাছে নত হয়ে ইসরায়েলি প্রশাসন এ পতাকা মিছিলের অনুমতি দেয়।

এদিকে গাজায় হামাসের সহকারী প্রধান খলিল আল হায়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি বসতি স্থাপনকারীদের চরমপন্থা আর পতাকা মিছিল বন্ধ করা না হয় তাহলে এ ঠুনকো যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়বে।’ একই সময়ে হামাসের সামরিক শাখা বলেছে, আমরা আল-আকসা মসজিদ ও জেরুসালেমে ইসরায়েলি দখলদার শক্তি ও তাদের নেতাদের উসকানিমূলক ও আগ্রাসী পদক্ষেপগুলোর ওপর নজর রাখছি। আমরা আল-আকসার ক্ষতি করার বিষয়ে তাদের সতর্ক করছি। একই সঙ্গে জেরুজালেমের (ফিলিস্তিনি) মুক্ত রক্ষকদের অভিবাদনও জানানো হয়।

সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর।

সর্বশেষ নিউজ