১৯, অক্টোবর, ২০২১, মঙ্গলবার

ঝর্নার পর এবার মামুনুলের নামে মামলা করতে যাচ্ছেন লিপি!

মামুনুল হকের নকল স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্না ইতিমধ্যে ধ- এর অভিযোগে মামলা করেছেন। এখন তার আরেক মানবিক স্ত্রী গাজীপুরের কাপাসিয়া নিবাসী জান্নাতুল ফেরদৌস লিপিও মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

মামুনুল হকের এই মানবিক স্ত্রীর কথাও যথারাীতি কেউ জানতো না। তবে ফোনালাপ প্রকাশের পর তার সন্ধান পায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

উল্লেখ, হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে একজন বেগানা নারীকে নিয়ে সময় কাটাতে গেলে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় জনগণের হাতে আটক হন। ওই সময় তিনি দাবী করেন যে ওই নারী তার বিবাহিত দ্বিতীয় স্ত্রী।

লোকজনের চাপের মুখে সে সময় তিনি দাবী করেন তার নাম আমেনা তৈয়বা। প্রকৃতপক্ষে আমেনা তৈয়বা তার আসল স্ত্রীর নাম, যিনি মোহাম্মদপুরে থাকেন।

আর জান্নাত আরা ঝর্নাকে রিসোর্টে ফূর্তি করতে যান, সেখানকার রেজিস্টারে ঝর্নার নামের জায়গায় লিখেন আমেনা তৈয়বার নাম। অর্থাৎ প্রতারণার ওপর আরেক প্রতারণা। গণমাধ্যমের কল্যাণে মামুনুল হকের আটক হওয়ার ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে এক পর্যায় আসল স্ত্রীকে ফোন করে বিষয়টা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন মামুনুল। জানান, আটককৃত নারী (ঝর্না) আসলে শহীদুল এর স্ত্রী।

ঘটনার প্রেক্ষিতে বেরিয়ে আসতে থাকে একের পর এক ঘটনা। ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে মামুনুল হকের নানান অপকর্মের ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে জানা যায়, জান্নাত আরা ঝর্ণা তার বিবাহিত স্ত্রী নন, তাকে তিনি সহযোগীতার নামে ভোগ করেছেন দিনের পর দিন।

প্রতারিত ঝর্ণা সম্প্রতি গত শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) মামুনুলের নামে মামলা করেছেন। সে মামলায় তিনি মামুনুল হকের নামে প্রতারণা, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক করা এবং ধ- এর অভিযোগ এনেছেন। ঝর্ণার অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে।

এই অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই মামুনুল হকের দ্বারা প্রতারিত কাপাসিয়ার জান্নাতুল ফেরদৌস লিপিও একই অভিযোগে মামলা করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

মূলত ঝর্নার ঘটনা প্রকাশের পরপর জানা যায়, মামুনুলের আরেকটি মানবিক স্ত্রী রয়েছে, তার নাম জান্নাতুল ফেরদৌস লিপি। তিনি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়ায় থাকেন।

স্ত্রী দাবি করা হলেও তাকে বিয়ের ক্ষেত্রে মামুনুল হক কোন কাবিন করেননি। মুখে মুখে কলেমা পড়ে স্ত্রী বানিয়ে দিনের পর দিন ভোগ করেছেন।

এরপর কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী) জেনারেল সেক্রেটারি ডা. এম এ সামাদ গত কিছুদিন আগে ফেসবুক লাইভে তথ্য প্রমাণসহ হাজির হন। তিনি সেদিন জানিয়ে দেন মামুনুল হক তার পিতা- স্বঘোষিত স্বাধীনতাবিরোধী আজিজুল হকের বিবাহিত সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী ফারহানাকে ডিভোর্স দিলে, সেই নারীকেও মামুনুল হক বিয়ে করেন নেন!

ডা. সামাদ জানান, ফারহানা বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তিনি তার ফেসবুক প্রোফাইলে মামুনুল হকের স্ত্রী পরিচয় আজও বহন করেন।

এমন তথ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে। সৎ মাকে কীভাবে কেউ বিয়ে করতে পারে- বিষয়টি জানাজানির পর মামুনুলের সাজাও দাবি করেন অনেকেই। এছাড়াও দিন কয়েক আগে ফেসবুকে আরেক নারী নিজেকে মামুনুল হকের স্ত্রী দাবি করে লাইভে পাল্টা প্রশ্ন করেন- মামুনুল হক এতজন স্ত্রী রাখতে পারলে কার কী সমস্যা?

তাই এখন প্রশ্ন উঠেছে, কাবিন ছাড়া মামুনুলের এরকম আর কতজন স্ত্রী আছেন?

সর্বশেষ নিউজ