১৪, জুন, ২০২১, সোমবার

ঝিনাইদহে বৃষ্টিতে বিষাক্ত নাইট্রেট গেমা , যা খেয়ে গরু শ্বাসকষ্ট ও পেটফুলে মারা যাচ্ছে

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের কয়েকটি গ্রামে দু-তিন দিনের ব্যবধানে মারা গেছে কমপক্ষে ১২ টি গরু। আরো গরু-ছাগল মারা যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে ।এমন ঘটনায় কৃষক ও খামারীদের মাঝে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। বিষয়টির সরেজমিন তদন্তে মাঠে নেমেছে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর, মাঠের ঘাসে টাঙ্গানো হয়েছে লাল ফ্লাগ, মৃত গরুর নমুনা পাঠানো হয়েছে ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবে।

অন্যদিকে জেলা জুড়ে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কিছু ঘাস কয়েকদিন না খাওয়ানোর জন্যে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।দীর্ঘ খরার পর বৃষ্টি পেয়ে মাঠে হঠাৎ বেড়ে ওঠা শামা, ভুরো, হেলেঞ্চা, গেমা জাতীয় বপন করা ঘাস পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত বা কিছুদিন না খাওয়ানোর পরামর্শ প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের। তারা বলছে, হঠাৎ বৃষ্টিতে এ জাতীয় ঘাসে অতিরিক্ত বিষাক্ত নাইট্রেট যৌগ জমা হচ্ছে, যা খেয়ে গরু শ্বাসকষ্ট ও পেটফুলে মারা যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে।শৈলকুপা উপজেলার চরধলহরা গ্রামের ভ্যানচালক আরশাদ মন্ডলের স্ত্রী লাইরী খাতুনের কান্না যেন থামছেই না। গত বৃহস্পতিবার তাদের ১মাত্র গাভি গরুটি হঠাৎ শ্বাসকষ্টে তাৎক্ষনিক মারা গেছে। খাওয়ানো হয়েছিল বাড়ির পাশে বোনা গেমা ঘাস। সেই ঘাস খেয়ে এমন অবস্থা বলে জানান।তার আগের দিন বুধবার মাঠে বোনা গেমা ঘাষ খেয়ে একই গ্রামের কৃষক রোস্তম আলীর ৫টি গাভির ৪টিই মারা গেছে ১ঘন্টার ব্যবধানে।

এখন খালি গোয়াল পড়ে আছে, খামার গড়ার স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেল চোখের পলকে।হেলেঞ্চা জাতীয় ঘাস খেয়ে পেটফুলে তাৎক্ষনিক মারা গেছে ভুলুন্দিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ৩টি, একই গ্রামের জামাল মোল্লার ১টি গরু। এভাবে শৈলকুপার বিভিন্ন গ্রামের কৃষক ও খামারীদের গরু মারা যাচ্ছে। উদ্বেগ আতঙ্ক ভর করেছে তাদের মাঝে। অনেক কৃষক এখনো বুঝে উঠতে পারছে না করণীয় কি তবে কিছু জাতের ঘাস গরুর পেটে হজম হচ্ছে না বলেও জানান তারা।এদিকে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বছরের এই সময়টাতে নাইট্রেট পয়জনের কারণে দু‘একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় গরু মারা যায় কিন্তু এবার এই শংকাটা বেশী কারণ দীর্ঘ সময় বৃষ্টিহীন ছিল। কেন গরু মারা যাচ্ছে এ ব্যাপারে আরো সুনির্দিষ্ট তথ্য জানার জন্যে মৃত গরুর নমুনা পরীক্ষার জন্যে পাঠানো হয়েছে ঢাকার সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবে। এলাকায়, এলাকায় গিয়ে কৃষকদের সতর্ক করা হচ্ছে, পোস্টার লিফলেট দেয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের এই সময়ে কিছুনদিন শামা, ভুরো, হেলেঞ্চা, গেমা জাতীয় ঘাস না খাওয়ানোর জন্য লিফলেট-পোষ্টার বিতরণ করা হচ্ছে । এজাতীয় ঘাস অতিরিক্ত পরিমান অক্সিজেন, নাইট্রোজেন গ্রহণ করার ফলে মাত্রাতিরিক্ত নাইট্রেট জমা হয়, যা গরু-ছাগল খেলে রক্তের হিমোগ্লোবিন ভেঙ্গে দেয়। এর ফলে শরীরে রক্তচলাচল কমে শ্বাসকষ্ট ও পেটফুলে তাৎক্ষনিক মারা যায়- জানান শৈলকুপা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মামুন খান। এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ খামারী ও কৃষকদের সহায়তা করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে।ঝিনাইদহ জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আনন্দ কুমার অধিকারী জানান, যেহেতু ১টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে, সেটি ছড়ানোর আশংকা রয়েছে তাই জেলা জুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে জেলায় ৬লক্ষ গাভী, ৬লক্ষ ছাগল, ১লাখ ২৫হাজার ভেড়া, দেড় হাজার মহিষ রয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ