১৯, অক্টোবর, ২০২১, মঙ্গলবার

ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার শুরু মঙ্গলবার

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় অভিশংসন বিচার মঙ্গলবার সিনেটে শুরু হচ্ছে। দ্রুত বিচার শেষ করতে সিনেট নেতারা একটি সময়সীমা নিয়ে একমত হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।

ক্ষমতা ছাড়ার পর কি কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইম্পিচমেন্টের মামলা চালানো যায়? মূলত এই প্রশ্নকে হাতিয়ার করে প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের আইনজীবীরা আসরে নামছেন। মঙ্গলবার মার্কিন সংসদের উচ্চ কক্ষ সেনেটে এই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এই নিয়ে ট্রাম্প দুই দুইবার ইম্পিচমেন্ট মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন।

প্রথম মামলায় তাকে ইউক্রেনের উপর অবৈধ চাপের অভিযোগের জবাব দিতে হয়েছিল। এবার তার বিরুদ্ধে আরো মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মূলে রয়েছে গত ৬ই জানুয়ারি মার্কিন সংসদ ভবনের উপর হামলার ঘটনা। ট্রাম্প সরাসরি সেই বিদ্রোহে প্ররোচনা দিয়ে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের সাংবিধানিক দায়িত্ব মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেইসঙ্গে হামলার দিন ইলেক্টোরাল ভোট গণনায় বাধা সৃষ্টির জন্যও তিনি দায়ী। মঙ্গলবার থেকে সেনেটে এই মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে। আগামী সপ্তাহান্ত বা তার পরেও এই আইনি প্রক্রিয়া চলতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

মূল অভিযোগের জবাব দেবার বদলে কোনো প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আদৌ ইম্পিচমেন্ট চালানো যায় না – এমন যুক্তিকে হাতিয়ার করছেন ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা। রিপাব্লিকান দলের বেশিরভাগ সংসদ সদস্যও একই কারণে ইম্পিচমেন্টের বিরোধিতা করছেন। সেনেটে দলের ৫০ জন সদস্যের মধ্যে ৪৫ জনই প্রাথমিক ভোটে এমন অবস্থান নিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সবার আগে সাংবিধানিকতার যুক্তি তুলে ধরে মামলা খারিজ করার চেষ্টা করতে চায় ট্রাম্প-শিবির। সেই প্রশ্ন নিয়ে ভোটাভুটির উপর মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে। এমন প্রস্তাব অনুমোদিত না হলে বুধবার থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে তর্কবিতর্ক শুরু হবে।

বুধবার সংসদের নিম্ন কক্ষের নয় জন ইম্পিচমেন্ট ম্যানেজার সবার আগে অভিযোগের সপক্ষে নিজেদের যুক্তি পেশ করবেন। ডেমোক্র্যাট দলের সংসদ সদস্যরা ৬ই জানুয়ারি সংসদ ভবনের উপর হামলার ভয়াবহ প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার স্মৃতি জাগিয়ে তুলতে চান। বেশ কয়েকটি ভিডিও দেখিয়ে তাঁরা সেই বিদ্রোহের প্রকৃত রূপ তুলে ধরতে চান। তাদের মতে, উন্মত্ত জনতার এমন মারাত্মক আচরণ ও হিংসালীলার জন্য একা ট্রাম্পই দায়ী ছিলেন। নির্বাচনি কারচূপির যে অভিযোগকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্ররোচনা চালিয়ে গেছেন, সেই অভিযোগ তাঁরই আমলে প্রশাসন ও বিচার বিভাগ বার বার খণ্ডন করেছে। ট্রাম্পের আইনজীবীরা হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের ভূমিকা অস্বীকার করছেন। এই অভিযোগকে তাঁরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদীত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করতে চান। নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে দুই পক্ষই আট ঘণ্টা করে সময় পাবে।

এমন প্রেক্ষাপটে ইম্পিচমেন্ট মামলা সফল করতে হলে সেনেটে কমপক্ষে ১৭ জন রিপাব্লিকান সদস্যের সমর্থনের প্রয়োজন। ট্রাম্পের এমন মারাত্মক আচরণের প্রতি সমর্থন জানালে আখেরে তাদের এবং তাঁদের দলেরই ক্ষতি হবে বলে সতর্ক করে দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা। ২০২২ সালে সংসদের প্রায় অর্ধেক আসনের নির্বাচনে তার পরিণতি দেখা যেতে পারে। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে ইম্পিচমেন্টের পক্ষে যথেষ্ট সমর্থন আদায় করা সম্ভব হলে আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্প অভিযুক্ত হবেন। তারপর সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলে সেনেট ভবিষ্যতে কোনো উচ্চ পদের জন্য ট্রাম্পের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারে। রিপাব্লিকান দলের একটা অংশ এমন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সমর্থন দেখাতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সর্বশেষ নিউজ