২৮, অক্টোবর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগর ছনবাড়ির ফ্লাইওভারের নীচে অসহনীয় জ্যাম!

মোহন মোড়ল,শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ছনবাড়ির ফ্লাইওভারের নীচে প্রতিদিন অসহনীয় জ্যামজট লেগেই থাকে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় সময়ই এই স্থানের জ্যামেজটের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পর থেকে শ্রীনগর, সিরাজদিখান ও লৌহজং উপজেলা থেকে শ্রীনগর বাজার এবং বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরতগণ এই পথে প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকে। এক্সপ্রেসওয়ের উভয় পাশে চলাচলের প্রধান পথ হওয়ায়, অটোরিক্সা, বাস, পিকআপ, ট্রাকসহ ৮টি রাস্তায় বিভিন্ন যানবাহন চতুর্মুখী যাতায়াত করে। একারণে প্রয়োজনের তুলনায় সরু পথ দিয়ে কে কার আগে যাবে এমন প্রতিযোগীতা করতে গিয়েই জ্যাম শুরু হয়। পরে সময়ের সাথে সাথে তা দীর্ঘ হতে থাকে।

রবিবার বেলা ১১ টা ও সন্ধ্যা ৬ টার দিকে সরজমিনে দেখা যায়, ফ্লাইওভারের নীচে বিশাল জ্যাম। একপ্রেসওয়ের ২ পাশের সার্ভিস লেনে ও শ্রীনগর-মুন্সীগঞ্জ সড়কের দুই পাশে প্রায় ৫ শতাধিক যানবাহন আটকা পড়েছে। শ্রীনগর থানা পুলিশ শত চেষ্টা করেও জ্যামের জট খুলতে পারছে না। যাত্রীরা কেউ কেউ অর্ধ কিলোমিটার ঘুরে ঝুঁকি নিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের বেড়া ডিঙ্গিয়ে রাস্তা পার হয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। বেশ কয়েকদিন ধরে ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রদানের সময়সীমা সীমিত করার পর থেকেই এই জ্যাম জটের আকার যেন আরো বেড়ে গেছে। জ্যামে আটকে থাকা সিংপাড়া এলাকার ষাটোর্ধ নারী জমিলা খাতুনের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, ১১ বছরের নাতিকে ডাক্তার দেখানোর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছেন।

দেড় ঘন্টা ধরে আটকে আছেন তিনি। অটোওয়ালা চিল্লাচিল্লি করছেন। কি করবেন বুঝতে পারছেন না। একটি বেসকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন বলেন, এক্সপ্রেসওয়েতে বাস চলাচল বন্ধ। পোস্তগোলা থেকে ২০০ টাকায় সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় অন্য যাত্রীদের সাথে শেয়ার করে ছনবাড়ি এসেছেন। এখান থেকে অটো নিয়ে মাঝপথে অটকে আছেন তিনি প্রায় ১ ঘন্টা ধরে। অটোরিক্সা চালক মমিনুল ইসলাম বলেন, উমপাড়া থেকে ৮০ টাকা ভাড়ায় যাত্রী নিয়েছেন আরধীপাড়া টেক্কা মার্কেট যাবেন বলে। এখানে এসে আটকে আছেন ২ ঘন্টা ধরে। যাত্রী ৩০ টাকা ভাড়া দিয়ে নেমে গেছেন। প্রতিদিন আমার মত অনেক অটো চালককেই এমন পরিস্থিতিতে পরতে হচ্ছে। এই জ্যামের কারণে আয়ও কমে গেছে। কিন্তু প্রতিটি অটোর জন্য মালিককে দিতে হয় দিন প্রতি ৩০০ টাকা। জমা দিয়ে নিজের হাত খরচের পর পরিবারের জন্য তেমন কিছু থাকে না।

ওই পথে চলালচকারী শ্রীনগর প্রেস ক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আরিফুল ইসলাম শ্যামল বলেন, রাস্তাটি নির্মাণের সময় এই রাস্তায় চলাচলকারী যাত্রীর চাপ নিয়ে ভাবা উচিৎ ছিল। জ্যামের এই স্থান থেকেই সামান্য দূরে রেল ব্রিজের কাজ হচ্ছে। ভাল ভাবে বিকল্প রাস্তা তৈরি না করেই অবিবেচকের মতো মাটি দিয়ে উচু নিচু রাস্তা তৈরি করে চালিয়ে দিচ্ছে। অনেকদিন ধরেই যানবাহন চলাচল করার সময় মনে হয় এখানে যেন ধূলি ঝড় হচ্ছে। কিন্তু কতৃপক্ষ রেল সেতুর নীচে বিকল্প রাস্তা ও এক্সপ্রেসওয়ের ফ্লাইওভারের নীচের রাস্তায় নজর না দেওয়ায় এই অঞ্চলের বহু মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

সর্বশেষ নিউজ