২৮, অক্টোবর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

তালায় আউশ ধানের বীজ,রাসায়নিক সার বিতারণে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

এসএম বাচ্চু,তালা(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি: উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে উফলী আউশ ধানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতারণে অনিয়ম,স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

প্রকাশ,গত সোমবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় উপজেলা কৃষি পূনর্বাসন বাস্তবায়নে তালা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে ১২টি ইউনিয়নের ১২শ কৃষকের মাঝে ধানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। ২০২১-২২ মৌসুমে আউশ প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় ধানের বীজ ও রাসায়নিক সার প্রতি কৃষকের মাঝে ধানের বীজ ৫ কেজি, ২০ কেজি ডিএমপি সার ও ১০ কেজি এমপিও সার বিনামূল্যে বিতারন করা হয়। কিন্তু সরকার প্রদত্ত এসব কৃষি প্রনোদনা বিতারনে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান,মেম্বার, ও কৃষি কর্মকর্তারা তাদের আত্নীয় স্বজন এবং নিজেদের সর্মাথকদের নাম তালিকা করে জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।এতে করে কৃষি প্রনোদনা পাওয়ার যোগ্য কৃষকরা সরকারী প্রনোদনা হতে বঞ্চিত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এমনকি একজনের নাম তালিকায় দিয়ে অন্য ব্যক্তি সেই নামে ভূয়া স্বাক্ষর করে ধান ও সার আত্নসাৎ করা তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

এমন অভিযোগের বিষয়ে সরজমিনে গিয়ে জানাযায়,উপজেলার আগোলঝাড়া গ্রামের অসহায় কৃষক আরিজুল নিজের নাম স্বাক্ষর করতে না পারলেও সরকারী রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর পাওয়া গিয়েছে। এবং কৃষি দপ্তরে সংবাদকর্মীরা অবস্থানকালীন সময় আরিজুলের নামের ধান ও সার অন্য একজন ব্যক্তি নিয়ে যায়। উক্ত ব্যক্তির বিষয়ে কৃষি দপ্তরের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জিঙ্গাসা করলে তিনি বলেন,আব্দুল্লাহ ভাই নিয়ে গিয়েছে।এই আব্দুল্লাহ ভাইটি কে জানতে চাইলে তিনি সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হন।

উক্ত ব্লকের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম ভূয়া স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তির স্বাক্ষর এটি।
এমনি করে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত ১০০ জন কৃষকের ধানের বীজ ও সার ভাই নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।এসব ভাইরা হলেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান,মেম্বার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পোষা দালাল।
সচেতন নাগরিকের প্রশ্ন, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পোষা ভাইদের কারনে আজ সরকারী কৃষি প্রনোদনা পাওয়া হতে বঞ্চিত হচ্ছেন অসহায় কৃষকরা।এসব পোষা দালাল ভাইদের হাতে কৃষি অফিস আর কতদিন বন্ধি থাকবে!

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাজিরা বেগম জানান,কৃষি প্রনোদনা বিতারণের জন্য নামের তালিকা তৈরী করেন সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদ্বয়।তারপরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটি অনুমোদন দেন।এমন একটি অভিযোগের কথা আমি শুনেছি।অভিযোগের বিষয়ে আমি মর্মাহত।অভিযোগটি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিবো।

সর্বশেষ নিউজ