৩, ডিসেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

তালা আলিয়া(ফাযিল)মাদ্রাসায় ২ জন শিক্ষকের ৪টি পদ দখল

এসএম বাচ্চু,তালা:উপজেলার তালা আলিয়া(ফাযিল) মাদ্রাসার মৌলভী (আরবি) ও উপাধ্যক্ষ পদে এ,জেড,এম আবু বকর সিদ্দীকি ও আওরঙ্গজেব হোসেন সহকারী মৌলভী(আরবি) ও আরবি প্রভাষক পদে চাকুরী এবং সরকারি কোষাগার থেকে বেতন উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া বর্তমান মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি সরদার জাকির,সদস্য সরদার মশিয়ার,সদস্য সরদার মোশারফের ইন্ধনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে এমপিও ভুক্তির তালিকায় আসারও অভিযোগ পাওয়া গেছে এই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারী,অভিভাবক-শিক্ষাথীদের মধ্য দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।

অভিযোগের ভিত্তিতে দেখা যায়, “এ,জেড,এম,আবু বকর সিদ্দীক” তালা ফাযিল মাদ্রারাসায় সহকারী মৌলভী পদে যোগদান করেন ২৭/০৮/১৯৮৯ তারিখে ও এমপিও ভুক্ত হন ২৭/০৮/১৯৮৯ তারিখে, তার ইনডেক্স নং-৩৫৮২২১। “এ,জেড,এম,আবু বকর সিদ্দীক” অত্র মাদ্রাসায় সহকারী মৌলভী পদ থেকে উপাধ্যক্ষ পদে শুধু রেজুলেশানের মাধ্যমে পদায়নের ভিত্তিতে যোগদান করেন ০৮/০৫/১৯৯৫ তারিখে কিন্তু কোন নিয়োগবোর্ড করেন নাই, এবং তাহা বৈধতার জন্য “দৈনিক পূর্বাঞ্চল” ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৬ পত্রিকায় “নিয়োগ বৈধ করণ” বিজ্ঞপ্তি দেয়। সম্প্রতি তিনি বাঁচার জন্য জাল-জালিয়াতি করে একটি নম্বরপত্র বানিয়েছে। সেখানে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শঃআঃআঃ সরকারী মহিলা উচ্চ বিদ্যালয়, অধ্যক্ষ নাংলা পি,এস, জে, ফাযিল মাদ্রারাসা, অধ্যক্ষ তালা সরকারী কলেজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়দের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। ২৪/১০/১৯৯৫ এর জনবলের পূর্বে আলিম স্তরের কোন উপাধ্যক্ষ পদ ছিল না। তাহলে কোন পরিপত্র বা জনবল অনুযায়ী নিয়োগ হয়েছে? আবার “এ,জেড,এম,আবু বকর সিদ্দীক” সহকারী মৌলভী পদের ইনডেক্সে প্রভাষক হিসেবে এমপিও ভুক্ত হন ০১/০৯/১৯৯৯ তারিখে কোন প্রকার নিয়োগবোর্ড ছাড়াই।

বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার তালা আলিয়া মাদ্রারাসার অধ্যক্ষ সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন আমার কাছে অফিসে উক্ত শিক্ষকের কোন নিয়োগ ফাইল নাই ও উপাধ্যক্ষ সাহেবের নিকট জানতে চাইলে তিনিও বিষয়টি এড়িয়ে যান।
২৪/১০/১৯৯৫ এর জনবল এবং ০৪/০২/২০১০ এর জনবল অনুযায়ী আলিম মাদ্রারাসায় কোন উপাধ্যক্ষ পদ ছিল না। পরবর্তীতে ১৯/০৭/২০১৮ এর জনবল এর ০৬.১ খ ধারা অনুযায়ী আলিম স্তরে উপাধ্যক্ষ পদ সৃষ্টি হওয়ায় উক্ত পদে লোক নিয়োগের জন্য উক্ত জনবলের পরিশিষ্ট-“ঘ” এর ক্রমিক নং ১০ধারা অনুযায়ী সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ০৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ প্রভাষক হিসেবে (আরবি বিষয়সমূহে) মোট ১২ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন তারপর (বিধিমোতাবেক নিয়োগবোর্ড এর মাধ্যমে নিয়োগ হতে হবে) অথচ উক্ত “এ,জেড,এম,আবু বকর সিদ্দীক” এর ক্ষেত্রে কোনটিই হয়নি।

এদিকে,আওরঙ্গজেব হোসেন (সহকারী মৌলভী ইনডেক্স নং- ০৭৯১৩০) একই মাদ্রারাসার শিক্ষক এ.জেড.এম আবু বকর সিদ্দীক, উপাধ্যক্ষ (কাম আরবি প্রভাষক, ইনডেক্স নং- ৩৫৮২২১) এর সহযোগিতায় অবৈধভাবে বেজুলেশান ও নিয়োগবোর্ড তৈরীকরে আরবি প্রভাষক পদের ফাইল প্রস্তুত করেন মাদ্রারাসার সকল শিক্ষকদের অগচরে। এবং পূর্বের অধ্যক্ষ সামছুর রহমানরে আমলে একবার সমালোচিত হলে তাদের তৈরীকরা রেজুলেশান জব্দ করেন এবং অধ্যক্ষ সামছুর রহমান সাহেবের অবসরের পরে সেটা তারা উদ্ধার করে নেয়। রেজুলেশানে তখনকার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রতি অধ্যক্ষ কাওছার উদ্দীনসহ সকল সম্মানীয় সকল সদস্যর স্বাক্ষর জাল করা হয়।এভাবে আবু বকর সিদ্দীক ও আওরঙ্গজেব হোসেন বিভিন্ন ছলচাতুরি করে এডহক কমিটির সভাপতি সরদার জাকির ও সদস্য সরদার মশিয়ারের নেতৃত্বে বহাল তবিয়াতে ২টি পদে চাকুরি করে যাচ্ছেন।

এছাড়া আবু বকর এমপিও ভুক্তর তালিকায় আরবি প্রভাষক থাকলেও বর্তমানে হাজিরা খাতায় উপাধ্যক্ষর স্বাক্ষর করেন। অনরুপ আওরঙ্গজেব সহকারী মৌলভী পদে এমপিও ভুক্ত থাকলেও আরবি প্রভাষক হিসেবে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এরকম দূর্ণীতির আশ্রয় নিয়ে তাহারা কিভাবে বহাল তবিয়াতে টিকে আছেন প্রশ্ন এখন জনমনে ?
অভিযুক্ত আবু বকর সিদ্দিকী বলেন,আমি মেীলভী(প্রভাষক) হিসেবে চাকুরিতে যোগদান করেছিলাম ১৯৮৯ সালে। এখন উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছি তবে বেতন না হওয়ার কারনে মেীলভী(প্রভাষক) বেতন উত্তোলন করে যাচ্ছি।
অভিযুক্ত আওরঙ্গজেব বলেন,আমি মাদ্রাসার গভনিং বডির সিধান্ত মোতাবেক দুটি পদে কর্মরত আছি। তবে সহকারী মৌলভী হিসেবে বেতন পাচ্ছি। প্রভাষক হিসেবে বেতন পাইনা।
মাদ্রাসার গভনিং কমিটির সভাপতি সরদার জাকিরনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোনটি রিসিভ করেননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আতিয়ার রহমান জানান,আবু বকর সিদ্দিকী হজুরের এখন ভাইস পিন্সিপাল তাই তার ইনডেক্স নং চেজ্ঞ হবে।আওরঙ্গজেব সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মরত আছেন সম্প্রতি প্রভাষক হিসেবে এমপিও ভুক্তর জন্য আবেদন করেছেন তবে কাগজ পত্রের ত্রুটির জন্য দাখিল হয়নি। এরা দুটি পদে দখল করে আছেন সেটি সত্য।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল ফজল মো: নুরল্লাহ জানান, বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানে বহু বছর ধরে গোজামিল ভাবে একপদে থেকে বেতন-ভাতা তোলে ও অন্য পদে নিয়োগ হয়ে থাকে। বড় পদে বেতন আসলে ছোট পদ থেকে পদত্যাগ করার একটা সাংষ্কৃতি চলে আসছে। এটা আইনগত ব্যাপার না। কমিটির সিদ্ধান্তের ব্যাপার, তা ছাড়া কিছু নয়। সঠিক আইনের প্রণয়ন করলে এটা মূলত বৈধ পাওয়ার কথা না।এর বাহিরে আমার কিছু বলার নাই।

সর্বশেষ নিউজ