৩, ডিসেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

তালেবানের ক্ষমতা উগ্রপন্থীদের চাঙ্গা করতে পারে : ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রধান

ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভের মহাপরিচালক বলছেন, তালেবানের হাতে আফগানিস্তানের পতন হয়তো যুক্তরাজ্যের তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীদের’ আরো উদ্দীপ্ত করে তুলে থাকতে পারে। বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কেন ম্যাককালাম বলেন, সন্ত্রাসের হুমকি যে রাতারাতি বদলে যাবে তা নয়। কিন্তু উগ্রপন্থীদের মনোবল বেড়ে যাওয়ার মতো কিছু হতে পারে।

এমন উদ্বেগও রয়েছে যে সন্ত্রাসীরা হয়তো পুনরায় সংগঠিত হয়ে ‘৯/১১ বা তার পরবর্তীকালের মতো’ বড় আকারের কোনো আক্রমণের পরিকল্পনা করতে পারে। তিনি জানান, গত চার বছরে যুক্তরাজ্যে মোট ৩১টি ‘শেষ-পর্যায়ে-থাকা আক্রমণের পরিকল্পনা’ ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ছয়টি আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল মহামারীর সময়। এমআই সিক্সের মহাপরিচালক জানান, এসব ছিল প্রধানত ইসলামী উগ্রপন্থী আক্রমণের পরিকল্পনা। তবে উগ্র দক্ষিণপন্থী সন্ত্রাসীদের আক্রমণের পরিকল্পনার সংখ্যাও বাড়ছে।

বিবিসির বিশ্লেষক গর্ডন কোরেরা বলছেন, সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে পশ্চিমা সৈন্যদের প্রত্যাহারের ফলে এমন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে জিহাদি হুমকি বেড়ে যেতে পারে ও দেশটি হয়তো এ ধরনের গোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হতে পারে।

‘আমি দুঃখের সাথে বলছি যে যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি একটি বাস্তব ওস্থায়ী ব্যাপার,’ বলেন ম্যাককালাম।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২০তম বার্ষিকীর আগে বিবিসি রেডিওর এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ম্যাককালাম বলেন, এমআইফাইভ যেসব হুমকির মোকাবিলা করছে তার মধ্যে ছোট আকারের ও ‘অনুপ্রাণিত’ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আফগানিস্তানের ঘটনাবলী ওইসব উগ্রপন্থীদের অনেককে আনন্দিত ও সাহসী করে তুলবে। তাই আমার প্রতিষ্ঠান এখন ওই ধরনের ঝুঁকিগুলোর দিকেই মনোনিবেশ করছে।’

ব্রিটিশ সরকার যদিও বলছে যে তারা তালেবানের কর্মকাণ্ড দেখেই সংগঠনটির মূল্যায়ন করবে। কিন্তু ম্যাককালামের মতে, যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা সংস্থাটি ‘ঝুঁকি আরো বাড়বে’- এমন আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেই আগামী দিনের জন্য পরিকল্পনা করবে।

তিনি আরো বলেন, ‘সন্ত্রাসের পরিকল্পনা, ট্রেনিং ক্যাম্প বা অবকাঠামো- এসব রাতারাতি পাল্টে যায় না, ৯/১১-এর পর আল-কায়েদা যে সব সুযোগ আফগানিস্তানে পেয়েছিল। এতে সময় লাগে। তাই ২০ বছর ধরে আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসের ঝুঁকি কমাতে যে প্রয়াস চলেছে, তাকে মোটামুটি সফল বলা যায়। পরিকল্পিত বা সংগঠিত সন্ত্রাসী কাজেও সময় লাগে। তবে যা রাতারাতি হতে পারে তা হলো এদেশে বা অন্যত্র উগ্রপন্থীদের মানসিকভাবে চাঙ্গা হয়ে ওঠা,’- বলেন ম্যাককালাম। তার মতে, বড় আকারের সন্ত্রাসী আক্রমণের সংখ্যা কমে গেলেও ‘অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসবাদের’ পরিমাণ বেড়েছে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে ইসলামিক স্টেট এমন একটা কিছু করেছে, যা আল-কায়েদা করেনি। সেটা হলো, অনেক লোককে ছোট আকারের সন্ত্রাসী কাজ করতে অনুপ্রাণিত করা। তার মতে, গত ৫ থেকে ১০ বছরে অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসের ঘটনা একটা ধারায় পরিণত হয়েছে, যার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি আল-কায়েদার মতো নির্দেশিত পরিকল্পনা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনার দিকেও নজর রাখতে হবে বলে মত দেন ম্যাককালাম।

সূত্র : বিবিসি

সর্বশেষ নিউজ