১৪, জুন, ২০২১, সোমবার

দুবেলা খাবার না পাওয়া রোহিঙ্গা তরুণের বিশ্বমঞ্চে যাওয়ার গল্প

নূর কবির। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরে বসবাস করতেন। ১৬ বছর বয়সে একাই নৌকায় করে সাগর পাড়ি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছান। সময়ের ব্যবধানে তিনি আজ বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছেন।

২৫ বছরের তরুণ নুর কবিরকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন এবিসি নিউজ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সম্প্রতি ব্রিসবেনে বডিবিল্ডিং প্রতিযোগিতা আইসিএন ক্লাসিক বিজয়ী হয়েছেন নূর। তিনি আগামী সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। সেজন্য নিজেকে তৈরি করছেন।

রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে থাকার সময় নূর কঠোরভাবে খাদ্য গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা শুরু করেন। আর সেই চর্চা তাকে আজ এখানে নিয়ে এসেছে।

নূর কবির মনে করেন, খেলাধুলার প্রতি তার যে আত্মনিয়োগ অন্য শরণার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণে উৎসাহিত করবে। তারা যে পরিস্থিতিতেই থাকুক তাদের শরীরের ওজন ধরে রাখবেন।

এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নূর কবিরের জন্ম বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে। এখনও সেখানে বসবাস করেন তার রোহিঙ্গা বাবা-মা।

নূর কবির বলেন, আমরা আশ্রয় শিবিরে ঠিকমতো তিনবেলা খাবার পেতাম না। কখনও কখনও আমাদের দিনে একবার মাত্র খাবার খেতে হতো। শিবিরের বাইরে যেতে পারতাম না। তাই রেশনের ওপর নির্ভর করতে হতো। তবে তা পর্যাপ্ত ছিল না। ওই আশ্রয় শিবিরে মাত্র ৫ বর্গমিটারের একটি রুমে বসবাস করতে হতো আমাদের সাতজনকে। সেখানেই ১৫ বছর বসবাস করেছি। এটাকে ভালোভাবে জীবনযাপন বলে না। তাই আমি নতুন করে জীবন শুরুর পরিকল্পনা করি।
১৬ বছর বয়সে নূর কবির একাই নৌকায় করে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। কখনও এ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি তার মাকেও বলেননি।

নূর কবির বলেন, দু’সপ্তাহ ধরে আমি কোথায় আছি, কি করছি কিছুই জানতেন না মা। পরে যখন আমার সন্ধান পেলেন তিনি হতাশ হয়েছিলেন। অনেক কেঁদেছেন। ভেবেছিলেন আমাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি (মা) কখনও আমাকে বাইরে যেতে দিতেন না। কিন্তু ওই আশ্রয় শিবিরে আমি আর থাকতে পারছিলাম না। আমাকে উন্নত জীবনের জন্য বাইরে পা বাড়াতেই হয়েছে। তাই ২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে নৌকায় করে অস্ট্রেলিয়ার পথে পা বাড়াই।

অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর নূরকে দু’বছর কাটাতে হয় কমিউনিটি ডিটেনশন কেন্দ্রে। এরপর তাকে একটি ব্রিজিং ভিসা দেওয়া হয়। নূর কবির একটি ফর্কলিফট চালকের কাজ পান। ২০১৭ সালে ব্রিসবেন রোহিঙ্গা কমিউনিটিতে বন্ধুদের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী শরণার্থীবিষয়ক প্রশিক্ষক ফিল নিক্সনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। এর পরই নূর কবিরের জীবন নতুন বাঁক নেয়। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে নূর বলেন, আমি বন্ধুদের সঙ্গে মাঝে মাঝেই জিমে যেতাম মজা করতে। আমাকে দেখে ফিল নিক্সন বলেছেন, আমার স্বাস্থ্য ভালো। আমি ফিটনেস নিয়ে চর্চা করতে পারি।

প্রশিক্ষক ফিল নিক্সন বলেন, প্রথমে নূর কবির ছিল অনেকটা অন্তর্মুখী। বডিবিল্ডিং নিয়ে সে নিশ্চিত ছিল না। কিন্তু কিছু করার মতো তার ভেতরে প্রাণশক্তি ছিল। তাকে আমি শুধু গতি দিতে চেয়েছি। আমার মনে হলো, তার স্বপ্ন আছে।

সর্বশেষ নিউজ