২০, মে, ২০২২, শুক্রবার

দেশে ৭০ শতাংশ মানুষ মারা যায় অসংক্রামক রোগে

স্টাফ রিপোটার:
দেশে অসংক্রামক রোগের কারণে অপরিণত মৃত্যু বাড়ছে। দেশে যত মৃত্যু হয় তার ১০ জনে মধ্যে ৭ জনই অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারসহ আরও কয়েকটি রোগে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ মারা যায়। এসব রোগে ৩০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে বেশি মৃত্যু হয় । আর এ মৃত্যু এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য বড় বাধা বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

বুধবার ( ২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘প্রথম ইন্টারন্যাশনাল এনসিডিসি কনফারেন্স-২০২২ বাংলাদেশ’ এর প্রথম দিনের সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের চিকিৎসকরা এসব বলেন।

চিকিৎসকরা বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাদের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আছে এমন তিনজনের একজন কিডনি রোগে ভুগছেন এবং তা তারা জানেন না। দেশে ১০০ জনের মধ্যে ৫০ জনই জানে না তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের অর্ধেকের বেশি জানেন না উচ্চ রক্তচাপ তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ১০০ জনের মধ্যে ৭৭ জন ওষুধ খাচ্ছেন কিন্তু তাদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই। একই অবস্থা ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রেও।

প্রথম জাতীয় অসংক্রামক রোগ সম্মেলনের সাধারণ সম্পাদক ডা. শামীম হায়দার তালুকদার বলেন, ৩৫ বছরের উপরে ৫০ শতাংশ মানুষের উচ্চ রক্তচাপ আছে। আমাদের দেশে উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারসহ কয়েকটি রোগে ৭০ শতাংশ মানুষ মারা যায়। যারা অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত তাদের চিকিৎসা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রতিরোধের ওপর জোর দিতে হবে। এ জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও অর্গানিইজিং কমিটির সায়েন্টিফিক সেক্রেটারি ডা. আলিয়া নাহিদ বলেন, বাংলাদেশের গ্রাম অঞ্চলের যদি খুঁজে দেখা হয় কতজনের উচ্চ রক্তচাপ আছে, দেখা যাবে ১০০ জনের মধ্যে ৫০ জন জানে না তাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে। মানুষ যখন ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গিয়ে সেখান থেকে প্রাথমিকভাবে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস লক্ষণ থাকার কথা শুনতে পারেন বা পরীক্ষা করে দেখেন, তখন থেকেই ওষুধ খাওয়া শুরু করে কিন্তু চিকিৎসকের কাছে যান না। এ কারণে দেশে অসংক্রামক ব্যাধি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, ৩০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতিবছর একবার করে অন্তত স্ক্রিনিং করতে হবে। স্ক্রিনিংয়ের মধ্যে শরীরের ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারলে ভালো। শরীরের মেদ, লবণ ও চিনি বেশি পরিমাণে খাওয়া, বসে বসে কাজ করা, মানসিক চাপে ভোগেন, খেলাধুলা করেন না, প্রতিদিন নিয়মিত ৩০ মিনিটের কম হাঁটাচলা করে এমন ব্যক্তিদের প্রতিবছর একবার করে স্ক্রিনিং করার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রথম দিনে সকালের উদ্বোধন সেশনে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. হুমায়ুন কবির, পিওর আর্থের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মাহফুজুর রহমান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী, সাউথ ইস্ট এশিয়া রিজিওনাল এনসিডি অ্যালায়েন্সের চেয়ারপার্সন ডা. মনিকা আরোরা, ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটেস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট (নির্বাচিত) অধ্যাপক আখতার হোসাইন, হেলথ ইকনোমিক ইউনিটের মহাপরিচালক ডা. শাহাদাত হোসেন মাহমুদ। এ সেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সেক্রেটারি ডা. সারওয়ার আলী।

সর্বশেষ নিউজ