২৩, সেপ্টেম্বর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

দ্বীন ইসলাম কবুল করে হয়ে গেলেন উমর ফারুক

হে রাষ্ট্র, তুমি নিরব থাকতে পারো না…
পূর্ণচন্দ্র ত্রিপুরা।
দ্বীন ইসলাম কবুল করে হয়ে গেলেন উমর ফারুক। দুদিন আগে তিনি উমর ফারুক থেকে শহীদ উমর ফারুক উপাধী পেলেন।

কারা তাঁকে শহীদ করে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিলো?
আমাদের পাহাড়ের সন্ত্রাসী সন্তু লারমার লোকজন।

কেন তাঁকে হত্যা করা হলো?

হত্যার কারণ, তিনি ইসলাম কবুল করেছিলেন, নিজ গোষ্ঠির অনেক মানুষকে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়ার দাওয়াত দিচ্ছিলেন। নিজের জমিতে মসজিদ তৈরি করে আল্লাহর রাহে সিজদাহ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। এর বাহিরে অন্য কোনো কারণ এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি।

সহ্য হলো না সন্ত্রাসী সন্তু লারমাদের। পাহাড়ে খ্রিষ্ট ধর্মের প্রচার চলবে, হাজারো পাহাড়ীকে খ্রিষ্টান বানানো যাবে, কিন্তু কেউ মুসলমান হতে পারবে না। পাহাড়ে খ্রিষ্টান মিশনারি স্কুল ও উপাসনালয় চলবে, কিন্তু চলবে না মসজিদ আর মুসলমানদের তৎপরতা।

আমাদের ভাই শহীদ উমর ফারুককে হত্যা করে কী বার্তা দেওয়া হলো?
পাহাড়ে যদি কেউ ইসলাম প্রচারে কাজ করে তাঁর পরিণতি হবে ভয়াবহ। এই তো?

কী বীভৎস বার্তা?
কী ভয়ংকর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলো ওরা?

এখন পাহাড়ে যদি মুসলমানরা রিপ্লাই দেওয়া শুরু করে, তখন কেমন হবে? খুবই ভয়াবহ হবে।

নাহ, সচেতন মুসলমানরা হটকারী কোনো সিদ্ধান্তে যাবে না। কারণ, কুশলীবরা এটাই চায়। তারা পাহাড়ে একটা ভয়ংকর ক্ল্যাশ চায়। স্বাধীন ‘জুম্মুল্যাণ্ড’-এর মাস্টারমাইনরা সুযোগের অপেক্ষা করছে।

হে রাষ্ট্র, এই ভূখণ্ডে কি মুসলমানদের এভাবে মরতে হবে সন্ত্রাসী সন্তু লারমার হাতে? রাষ্ট্র কি তাঁর নাগরিক উমর ফারুকের হত্যাকাণ্ড এভাবে মেনে নিবে? বাংলাদেশ সরকার কি সন্ত্রাসী সন্তু লারমার কাছে এভাবেই জিম্মি থাকবে?

পার্বত্য চট্টগ্রামে আমার ভাই উমর ফারুককে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। সন্ত্রাসীদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
পাহাড়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পাহাড়ে শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে।
এই মসজিদকে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করে দিতে হবে।

শহীদ উমর ফারুকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে সন্ত্রাসীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে।

এই হত্যাকাণ্ড একটা দুঃসাহস, একটা স্পষ্ট বার্তা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আমাদের পাহাড়ে নিয়ন্ত্রণ রশি ঢিল হবে। আশা করি, সরকার ব্যাপারটিকে সিরিয়াসলি নিবে।

আমাদের ভাই শহীদ উমর ফারুক কতই না ভাগ্যবান! ছিলেন অমুসলিম, দ্বীন কবুল করে আত্মসমর্পণকারী হয়ে গেলেন। আল্লাহ তায়ালা এতটাই পছন্দ করলেন, নসিবে শাহাদাত লিখে দিলেন। সুবহানআল্লাহ।

আমরা শহীদ ভাইকে নিয়ে চিন্তিত নই। চিন্তিত তাঁর মিশন নিয়ে। সন্ত্রাসীদের এই বীভৎস চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার হিম্মত আছে।

শহীদ উমর ফারুক ভাই প্রতিষ্ঠিত মসজিদকে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করতে মুসলিম মিল্লাতকে এগিয়ে আসার বিনীত অনুরোধ করছি। দৃষ্টিনন্দন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত মসজিদ কমপ্লেক্স তৈরি করা হবে প্রথম জবাব। মসজিদের নাম হোক- শহীদ উমর ফারুক মসজিদ।

সর্বশেষ নিউজ