৬, জুলাই, ২০২২, বুধবার

নবাবগঞ্জে গৃহবধূকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের

নবাবগঞ্জ(দিনাজপুর)থেকে সৈয়দ হারুনুর রশীদঃ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে খাদিজা আক্তার রনি(২৩) নামে এক গৃহবধূকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দানের অভিযোগে গৃহবধূর স্বামী সোহেল রানা ও শাশুড়ী শিরিনা আক্তারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।গৃহবধূর পিতা জেলার হাকিমপুর উপজেলার বাওনা গ্রামের মো. মকবুল হোসেন বাদী হয়ে গত শনিবার দিনগত রাতে নবাবগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা সূত্রে জানা যায় মামলার বাদীর মেয়ে খাদিজা আক্তার রনির সাথে নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের সিংড়া শতপুর(দক্ষিনপাড়া) গ্রামের মো. আফজাল হোসেনের

ছেলে মো. সোহেল রানার (২৯) ৭/৮মাস পূর্বে বিয়ে হয় এবং তার মেয়ে ৪ মাসের
অন্তঃসত্ত্বা ছিল। বিয়ের পর জামাই সোহেল রানা যৌতুকের দাবী করলে তিনি তাকে একটি মটর সাইকেল কিনে দেন। এরপরে আরও ১ লাখ টাকা যৌতুকের চাঁপ দিলে তার মেয়ে প্রায় এক সপ্তাহ পূর্বে তার বাবার বাড়ীতে যায় এবং ১ লাখ টাকা দেয়ার কথা বলে।তিনি টাকা দিতে পারবেন না বলে মেয়েকে জানালে মেয়ে গত শুক্রবার বিকালে স্বামীর বাড়ীতে আসে। বিয়ের পর থেকে জামাই তার মেয়েকে বিভিন্ন ভাবে শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছিল। এমতাবস্থায় গত শনিবার বিকালে তার জামাই ফোন করে জানায় যে তার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে তিনি সহ অন্যরা এসে জানতে পারেন যে তার জামাই মেয়েকে

বকাঝকা করে বাহিরে দোকোনে যায়। তার মেয়ে স্বামী ও শাশুড়ীর প্রত্যক্ষ
প্ররোচনায় চরম ভাবে অতিষ্ট হয়ে নিজ ঘরের ফ্যানের সাথে ওড়না লাগিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ঘটনার পর স্থানীয় ইউ,পি সদস্য আতাউর রহমান তার জামাইকে আটক করে পুলিশে সংবাদ দেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের লাশ উদ্ধার সহ জামাইকে আটক করে। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন তার জামাইয়ের ১ম স্ত্রী প্রায় ১ বছর পূর্বে আত্মহত্যা করে। মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই আকতারুল করিম জানান লাশ ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর
রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং আটক গৃহবধূর স্বামী সোহেল রানাকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আজ রবিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ