২৩, সেপ্টেম্বর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

নরসিংদীতে এবার ১৫ হাজার মেট্রিক টন লটকন উৎপাদন

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীতে লটকন চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন চাষিরা। আর্থিক লাভের কারণে চাষিদের মধ্যে লটকন চাষে উৎসাহের পাশাপাশি প্রতি বছরই এখানে বাড়ছে বাগানের সংখ্যা। বর্তমানে নরসিংদীর উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের সমতল পাহাড়ি লালমাটি এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত মণ লটকন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে যাচ্ছে।
নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক ড. সাফায়েত আহম্মদ জানান, এ বছর নরসিংদী জেলায় প্রায় এক হাজার ৩৬৯ হেক্টর জমিতে লনকট চাষ হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেলাবতে -১২৩ হেক্টর, শিবপুরে-১২০০ হেক্টর, মনোহরদীতে-১০ হেক্টর, রায়পুরায়-৩১ হেক্টর ও পলাশে-৫ হেক্টর। মওসুমে এখানে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন লটকন উৎপাদন হয়, যার আনুমানিক দাম ৪০-৪৫ কোটি টাকা।

নরসিংদীর উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সুউচ্চ গৈরিক বা লাল রঙের মাটিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান বিদ্যমান থাকায় এ মাটিতে লটকনের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। স্বাদে-গন্ধে হচ্ছে মিষ্টি এবং আকৃতিতেও হচ্ছে বড় বড়। নরসিংদীর রায়পুরা, শিবপুর, বেলাব, মনোহরদী ও পলাশ উপজেলার শত শত চাষি বর্তমানে লটকন বিক্রি করে অর্থনৈতিক সাফল্য ফিরিয়ে আনছেন। সরেজমিন দেখা গেছে, শিবপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লটকনের বাগান রয়েছে। ২০ বছর আগেও লটকনের স্বতন্ত্র বাগান ছিল না। তখন অন্যান্য ফলগাছের সাথেই দু-একটি গাছ লাগানো হতো। লটকন চাষিরা জানান, পূর্বসময়ে লটকনের তেমন চাহিদা ছিল না, দামও ছিল কম, সে কারণে কেউ লটকনের স্বতন্ত্র বাগান করার চিন্তা করত না। বর্তমানে চাহিদা ও মূল্য দু’টিই বেড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মিস্টার মিয়া জানান, প্রতি কেজি লটকন তারা ঢাকায় নিয়ে ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে থাকেন। স্থানীয় লাকপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও লটকন চাষি জাহাঙ্গীর আলম জানান, লটকন গাছে নারী-পুরষ রয়েছে। ফল আসার আগ পর্যন্ত নারী-পুরষ চিহ্নিত করা দুষ্কর। চারা লাগানোর কমপক্ষে পাঁচ বছর পর ফল আসে।
প্রথম দিকে চাষিরা চারার জন্য নার্সারিগুলোর ওপর নির্ভর করলেও এখন তা করছেন না। এখন নিজেরাই চারা তৈরি করছেন। বহু অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা গেছে এবং এক বিচি বিশিষ্ট লটকটন থেকে অধিক নারী গাছের জন্ম নেয়। তা ছাড়া চারা অবস্থায় গাছের বিভিন্ন লক্ষণ দেখে অভিজ্ঞরা নারী চারা শনাক্ত করতে পারেন। বাছাইয়ের এ পদ্ধতি বিজ্ঞানসম্মত না হলেও চাষিরা বেশ সাফল্য পাচ্ছেন।

দেখা গেছে, বাগানগুলোতে নির্দিষ্ট দূরত্বে তিনটি করে চারা রোপণ করা হচ্ছে। পাঁচ বছর পর প্রথম ফল এলে নারী গাছ রেখে বাকিগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। একটি পূর্ণবয়স্ক লটকন গাছে ৫ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। অন্য কোনো ফলে সাধারণত এত টাকা আয় হয় না। লটকন চাষে রোগ বালাই তেমন একটা নেই। চাহিদাও প্রচুর, এসব কারণেই দিন দিন নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় লটকন চাষের প্রসার ঘটছে। এ ছাড়া দেশের পাশাপশি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে এখানকার লটকনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।সূত্র: এনডি ।

সর্বশেষ নিউজ