১৭, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শুক্রবার

নরসিংদীতে করোনাকালীন সময়েও পাসপোর্ট অফিসে চলছে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদী আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে এই করোনাকালীন সময়েও চলছে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য। পাসপোর্টের অনেক গ্রাহকরা নিয়ম মেনেও সঠিক সময়ে পাসপোর্ট পাচ্ছে না। তাই তারা বাধ্য হয়ে নিতে হচ্ছে অফিসের সাথে গোপনে সম্পর্কিত দালাল চক্রের।
এই পাসপোর্ট অফিসের পিয়ন থেকে কর্মকর্তা সবার সঙ্গেই দালাল চক্রের ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। এই কর্মকর্তাদের সাথে দালাল চক্রের ভালো সম্পর্ক থাকায় প্রতিনিয়তই গ্রাহকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এদিকে সৌদি আরব প্রবাসী বিল্লাল মিয়া পাসপোর্ট করতে এসে ভোগান্তিতে পরে সংবাদকর্মী রুদ্রকে অভিযোগ করে বলেন, আমি সরকারী নিয়ম মাফিক সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে এসেছি তবুও পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা আমার ফাইল জমা না নিয়ে আমাকে ১৫ দিন পর এসে ফিঙ্গার দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু আমি বাইরে বের হয়ে তাদের সাথে সম্পর্কিত দালাল চক্রকে ২ হাজার টাকা ধরিয়ে দিলে মাত্র ১০ মিনিটে আমার ফিঙ্গার দিয়ে দেয়। এই হচ্ছে নরসিংদী পাসপোর্ট অফিসের বর্তমান অবস্থা।

অপরদিকে এই দালাল চক্রের এক সদস্যকে সংবাদকর্মী রুদ্র ধরে ফেললে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি কথা বলতে রাজি হন তারপর সংবাদ কর্মী রুদ্র ঐ দালালকে অব্যয় দিলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি ফাইলে আইপি করার জন্য দালাল চক্রের নির্দিষ্ট একটি চিহ্ন যে কোন পৃষ্ঠায় থাকে যা দেখে কর্তৃপক্ষরা সহজেই বুঝতে পারে এটা কোন দালালের।
পরবর্তীতে এই আইপির টাকা দালাল চক্রের নিকট থেকে সন্ধ্যা হলেই যে কোন দোকানে বসে কিংবা রেষ্টুরেন্টে বসে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা গ্রহণ করেন। এক কথায় অভিনব কাদায় এই নরসিংদী পাসপোর্ট অফিসে চলছে ঘুষ বাণিজ্য।

এ বিষয়ে পাসপোর্ট অফিসের প্রধান কর্মকর্তা মানিক চন্দ্র দেবনাথ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারে নাই। তিনি আরো বলেন, উর্ধ্বতন কর্মর্তার নির্দেশ পেলেই তিনি সবকিছু বলবেন।
আজ ১৭ ই জুন রোজ বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের গেটের সামনে প্রতিনিয়ত ঘোরাফেরা করছে দালাল চক্রের সদস্যরা। কেউ পাসপোর্টের আবেদন নিয়ে এলেই তাকে পড়তে হয় এ চক্রের কবলে। তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম।

এ বিষয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও কোন সমাধান না হওয়ায় অনেক ক্ষোভ প্রকাশ করেন পাসপোর্ট করতে আসা গ্রাহকরা। তাদের দাবী অতি শীঘ্রই যেন প্রশাসন এই দুর্নীতির দিকে নজর দেন।

সর্বশেষ নিউজ