২৮, অক্টোবর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

নরসিংদীতে নকল তামাক পণ্য : হুমকিতে জনস্বাস্থ্য, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার জয়নগর এলাকায় ২০ টিরও অধিক রয়েছে তামাক ও বিড়ির কারখানা। এ সমস্ত কারখানাগুলোতে নিয়মিত সরকারকে ফাঁকি দিয়ে চলছে রমরমা কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা। নকল তামাক পণ্যে বাজার সয়লাব হচ্ছে। মানবদেহের জন্য তামাকজাত পণ্য এমনিতেই মারাত্মক ক্ষতিকর। তার ওপর এসব নকল তামাকজাত পণ্যে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

ধূমপানকে নিরুৎসাহিত করে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এবং রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতি বছর বাজেটে বিড়ির ওপর করারোপ করা হচ্ছে। কিন্তু কর প্রদানে জটিলতা এবং কর না দিয়ে নকল পণ্য বাজারজাত হওয়ায় রাজস্ব আয় আশানুরূপ বাড়ছে না। অন্যদিকে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

এদিকে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার জয়নগর এলাকায় স্পেশাল আপন বিড়ির কারখানা নামক স্থানে গিয়ে দেখা যায় যে, উক্ত বিড়ির প্যাকেটের উপর সরকারি রাজস্বের যেই টোকেন থাকার কথা সেই টোকেন আসলে নেই। উক্ত জায়গায় অবৈধ টোকেন লাগিয়ে রমরমা ব্যবসা চালাচ্ছে মালিকপক্ষ। অথচ টোকেন বাজার দর ৯ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু তারা বিড়ির প্যাকেটেই বিক্রি করছে মাত্র ১০ টাকা।

অপরদিকে আবুল কাশেম অভিযোগ করে বলেন, আমাদের শিবপুর উপজেলার জয়নগর এলাকায় প্রায় ৪১ টি বিড়ির কারখানা রয়েছে। এগুলোর প্রায় সবগুলোতেই প্রতিটি বিড়ির প্যাকেটে সরকারী রাজস্ব টোকেনের স্থলে ২ নাম্বার টোকেন ব্যবহার করে ব্যবসা করে আসছে মালিকপক্ষ।এর ফলে সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব। রাজস্ব ফাঁকি দেয়া এসব অবৈধ ও নিম্নমানের বিড়ি সরকার নির্ধারিত মূল্যের কোনো তোয়াক্কা না করে বাজারে হরহামেশাই বিক্রি হচ্ছে। ফলে কম দামি এসব বিড়ির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন স্বল্প আয়ের ধূমপায়ীরা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব অবৈধ বিড়ির বাজার থেকে সরকার প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে, যা তামাক খাত থেকে পাওয়া মোট রাজস্বের প্রায় ১০ শতাংশ। জটিল কর কাঠামো, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সার্বিক তদারকির অভাবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অবৈধ বিড়ির এই বাজার বাড়ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, ধূমপায়ীর সংখ্যা কমানোর লক্ষ্যে সরকার প্রতি বছর বাজেটে বিড়ির দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু এসব অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের লভ্যাংশের জন্য ইচ্ছামত দাম নির্ধারণ করে বাজারজাত করছে।

এসব তামাক বিষয়ে পাঁচ পর্বের ১ম পর্বে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনেক মালিকপক্ষ তাদের অবৈধ ব্যবসার বিষয়ে মুখ খুলেছেন। আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আগামী সংখ্যায় চোখ রাখুন।

এসব অবৈধ তামাক কোম্পানীর কারণে সরকারের রাজস্ব আয় কমার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে তামাক খাত থেকে আগামী অর্থবছরগুলোতে ব্যাপক হারে রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। এ বাণিজ্য বন্ধে এনবিআরকে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ নিউজ