১, জুলাই, ২০২২, শুক্রবার

নরসিংদীতে লকডাউনে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিষেধ হুশিয়ারী হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীতে এবারের কঠোর লকডাউনে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত গাড়ি বা মোটরযান নিয়েও বের হওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দায়িত্বে থাকা নরসিংদীর হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা।
এদিকে আজ ২৮ শে জুলাই রোজ বুধবার শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা বাস ষ্ট্যান্ডে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চেক পোস্টে হাইওয়ে পুলিশের কঠোর জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে প্রাইভেট গাড়িসহ ব্যক্তিগত মোটরযানের।
শুধু তাই নয়, মানুষের অজুহাতের শেষ নেই। তারা বাইরে ঘুরাঘুরি করার জন্য বিভিন্ন তালবাহানা করলেও এবার হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা খুবই তৎপর হওয়ায় রেহাই পাচ্ছে না কেহই।

এদিকে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা এক প্রাইভেটকার চালক মোঃ আইনুল হোসেন সংবাদকর্মী রুদ্রকে বলেন, আমি ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে এই প্রাইভেট গাড়ীটি ক্রয় করেছি। মাস শেষেই আমাকে এই গাড়ীর লোনের টাকা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দিতে হয়। সেই সাথে পরিবারের খরচ তো আছেই। তাই বর্তমানে আমি লকডাউন না মেনেই পেটের ক্ষুধা এবং নিজের মান সম্মান বাঁচানোর জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছি।

শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা বাস ষ্ট্যান্ডে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চেক পোস্টে দায়িত্বে থাকা হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র দাস সংবাদকর্মী রুদ্রকে বলেন, বর্তমানে সারাদেশে করোনা ভাইরাস ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন বহু মানুষ এই করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। তাই দেশের কল্যাণে এবং বর্তমান সচেতন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে জনসাধারণকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করে তুলছি। তিনি আরো বলেন, কোনো ধরনের যানবাহন এবার চলতে দেব না। তবে পণ্যবাহী যেসব যানবাহন রয়েছে সেগুলো চলবে। সঙ্গত কারণে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কাঁচাবাজার, রোগীদের ওষুধ কেনা, কোভিডের টিকা নিতে যাওয়া, কোভিডের টেস্ট করাতে যাওয়া এসব ক্ষেত্রে কোভিডের ম্যাসেজ দেখিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বাইরে বের হতে পারবেন।
এ সময় অনুমোদিত কারণের বাইরে কেউ রাস্তায় বের হলে গ্রেফতার করা হবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

জেলার হাইওয়ে পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা মোঃ হায়দার সংবাদকর্মী রুদ্রকে বলেন, সঙ্গত কারণ ছাড়া অকারণে কেউ যদি ঘর থেকে বের হয়, তবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হবে। তার বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ২৬৯ ধারায় মামলা দিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে। আবার আদালতে না পাঠিয়ে মোবাইল কোর্ট দিয়ে তাদের তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এই ধারায় সর্বোচ্চ ৬ মাসের জেল, অর্থদন্ড ও উভয় দন্ড হতে পারে বলেও তিনি জানান। প্রতিদিন মহাসড়কে ৮ টি করে মামলা দেওয়া হচ্ছে। জনসাধারণের কল্যাণে আমরা বিনামূল্যে প্রতিদিন মাস্ক ও নেমপ্লেট বিতরণ করছি এবং জনসাধারণকে কোভিড-১৯ সম্পর্কে সতর্ক করছি।

সর্বশেষ নিউজ