১, ডিসেম্বর, ২০২১, বুধবার

নরসিংদীতে লটকন চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন অনেক চাষি

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীতে লটকন চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন অনেক চাষি। আর্থিক লাভের কারণে চাষিদের মধ্যে লটকন চাষে উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছরই এখানে বাড়ছে লটকন বাগানের সংখ্যা। বর্তমানে নরসিংদীর উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের লালমাটি এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রচুর লটকন যাচ্ছে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে।

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলার বেলাব, শিবপুর, মনোহরদী ও রায়পুরা উপজেলায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ হয়েছে। গত বছর হয়েছিল ৫৩৯ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে শিবপুর উপজেলায় ৪০০ হেক্টর ও বেলাব উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে। এ ছাড়া রায়পুরা ও মনোহরদী উপজেলায় লটকনের চাষ হয়েছে প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে।

মৌসুমে এখানে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন লটকন উৎপাদন হয়, যার আনুমানিক দাম ২৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা।
চাষিরা জানান, লটকন গাছ উঁচু ও সমতল সব ধরনের জমিতেই জন্মে। আগে গ্রামে কোন কোন বাড়িতে লটকন গাছ দেখা যেত। ব্যাপক চাহিদা বা ফল হিসেবে সমাদর তেমন ছিল না বলে কেউ এটিকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের কথা চিন্তা করত না। প্রচুর ক্যালরি, খাদ্য ও পুষ্টিগুণ সমৃব্ধ এ ফলটির চাহিদা বর্তমানে অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে দামও।
মাটি ও জাতগুণে লটকন টক ও মিষ্টি দুই প্রকারের। তবে অধিক মিষ্টি ও সামান্য টক স্বাদের লটকনের চাহিদা বেশি।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, নরসিংদীর উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের উঁচু এলাকার লাল রঙের মাটিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান বিদ্যমান থাকায় এ মাটিতে লটকনের উৎপাদন ভাল হচ্ছে। এগুলো আকৃতিতেও বড় ও মিষ্টি। নরসিংদীর রায়পুরা, শিবপুর, বেলাব ও মনোহরদী উপজেলার শত শত চাষি লটকন বিক্রি করে অর্থনৈতিক সাফল্য পেয়েছেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, শিবপুর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লটকনের বাগান রয়েছে। ১৫-২০ বছর আগেও লটকনের স্বতন্ত্র বাগান ছিল না। তখন অন্যান্য ফলগাছের সঙ্গেই দু’একটি গাছ লাগানো হতো ।
লটকন ফলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গাছের কাে ফলে। পুষ্টির সুসমতা ও আবহাওয়া অনূকূলে থাকলে গাছের গোড়া থেকে কা পর্যন্ত ঝোপায় ঝোপায় এত বেশি ফল আসে যে তখন গাছের কা বা ডাল দেখা যায় না। আর একটি বিষয় হচ্ছে, লটকন পাকার ৫০-৬০ দিন আগে গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম পটাশ পানির সঙ্গে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় দিলে ফলের মিষ্টতা বাড়ে।
১০ বছর বয়সী একটি লটকন গাছে গড়ে ২০০ কেজি লটকন ধরে। ফল হিসেবে লটকন যেমন খাদ্যমানে ভরপুর, তেমনি ক্যালসিয়াম, ক্যারোটিন ও খনিজ লবণে সমৃদ্ধ।

সর্বশেষ নিউজ