২০, অক্টোবর, ২০২১, বুধবার

নরসিংদীতে ২০ হাজার টাকা খরচ করেও থানায় বিচার পাচ্ছে না, অভিযোগ ভুক্তভোগীর

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীতে রায়পুরা উপজেলার চান্দেরকান্দি গ্রামে মেয়ে রিক্তা বেগম (২০), পিতা- বাবুল মিয়া এলাকার সন্ত্রাসীদের কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ২৪ শে মে রোজ সোমবার সকাল ১০ ঘটিকার সময় রিক্তা বেগমের বাড়ীতে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে নুর আলম (৩০) এবং জাহাঙ্গীর (৪০) জোর পূর্বক প্রবেশ করিয়া রিক্তা বেগমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে। জানা গেছে যে, সন্ত্রাসীগণ রিক্তা বেগমের শরীরের কাপড় বিবস্ত্র করে তার শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং তাকে এলোপাথারী মারধর করে। অথচ রিক্তা বেগম ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে যে, সন্ত্রাসী নুর আলম ও জাহাঙ্গীর রিক্তা বেগমের গর্ভের সন্তান নষ্ট করার অসৎ উদ্দেশ্যে তার তলপেটে একাধিক লাথি/ফার মেরে গুরুতর জখম করে। মেয়ে রিক্তা বেগমের ডাক চিৎকারে মেয়েকে বাঁচানোর জন্য রিক্তা বেগমের মা আহেল (৪৫) আগাইয়া আসিলে সন্ত্রাসী নুর আলম তাকে দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।

পরবর্তীতে রিক্তা বেগমের স্বামী সোহেল মিয়া নিজে বাদী হইয়া রায়পুরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পরে রায়পুরা থানার পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত ঘটনাস্থল যায় এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগটি তদন্ত করে আসামীগণদের বিরুদ্ধে সঠিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

কিন্তু ঘটনাটির ২ দিন পার হয়ে গেলেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বাদী সহ তার পরিবার। এদিকে উক্ত ঘটনার সন্ত্রাসীরা বাদীকে অভিযোগ উঠিয়ে নিতে প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করছে সেই সাথে মেরে ফেলার হুমকিও প্রদান করছে বলে অভিযোগ করে বাদীপক্ষ। বর্তমানে বাদী ও তার পরিবার খুবই নিরাপত্তাহীনভাবে দিনাতিপাত করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে, স্থানীয় ইউপি সদস্য উজ্জল মেম্বার মামলাটি এফ.আই.আর করাবেন বলে বাদীর কাছ থেকে থানার খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা নিয়েছে এবং রায়পুরা থানায় অন্যান্য খরচ বাবদ বাদীর আরো ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু তিনি কোন কিছুই করেন নি। পরবর্তীতে উজ্জল মেম্বার উল্টো বাদীকে এই বিষয়ে চুপ থাকার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বাদী।

গোপন সূত্রের ভিত্তিতে ও বাদীর বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, রায়পুরা থানার এস.আই মনোয়ার এবং উজ্জল মেম্বার মিলে এই ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে একটি কুচক্রী কৌশল চালাচ্ছে। অথচ বাদীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে কাজ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিরে আরো জানা যায়, উজ্জল মেম্বার ও এসআই মনোয়ার বিবাদীদের কাছ থেকে এই ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে সংবাদ কর্মী রুদ্র মোবাইল ফোনে রায়পুরা থানার এস.আই মনোয়ার এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলনে, এ বিষয়টি নিয়ে আমি পরে কথা বলব। এই বলে তিনি ফোন কেঁটে দেন।
এ বিষয়ে সংবাদ কর্মী রুদ্র স্থানীয় ইউপি সদস্য উজ্জল মেম্বারকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ঘটনাটি যেহেতু সত্য সেহেতু চেয়ারম্যান সাহেবকে সাথে নিয়ে আমরা শালিসের মাধ্যমে ঘটনাটি শেষ করব। পরে তাকে টাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি দ্রুত ফোনটি কেঁটে দেয়।

বর্তমানে আহত ব্যক্তিরা রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে। কিন্তু তাদের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। গরীব বিধায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ভালো হাসপাতালে যেতে পারছে না। অন্যদিকে বিচার না পেয়ে ক্ষোপ প্রকাশ করলেন তারা। এই অসহায় পরিবারটি ন্যায় বিচার পাওয়ার দৃঢ় আশায় সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয়ের সহযোগিতা চাচ্ছেন।

সর্বশেষ নিউজ