৭, জুলাই, ২০২২, বৃহস্পতিবার

নরসিংদীর রায়পুরায় গরিবের ভিজিএফের চাল বিতরণ সহ সকল কর্মকান্ডে চেয়ারম্যানের অনিয়ম

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর রায়পুরার হাইরমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক বাবলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিগত সময়ে এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গা সম্পত্তিও জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছ। এই চেয়ারম্যানের অতি দরিদ্রদের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কার্যক্রম ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিংয়ের (ভিজিএফ) চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার হাইরমারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক বাবলার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তোলেন উপকারভোগীরা। জানা গেছে, জনপ্রতি উপকারভোগী দশ কেজি করে চাল পাবেন। কিন্তু চেয়ারম্যান বাবলা বিতরণ করেছেন সর্বনিম্ন ছয় কেজি থেকে আট কেজি পর্যন্ত। এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ জানিয়েছেন উপকারভোগীরা।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, হাইরমারা ইউনিয়নে ভিজিএফ কার্ডধারী এক হাজার ১১০ জন উপকারভোগীর জন্য এগারো মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। শনিবার (১৭ জুলাই) হাইরমারা ইউপি চেয়ারম্যান ও ট্যাক অফিসারের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ করা হয়। তবে চাল বিতরণের অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করেন উপকারভোগীরা।
তাছাড়া বিগত সময়ে চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক বাবলা ও তার আশে পাশের সঙ্গীরা সম্মিলিতভাবে ইউনিয়ের সকল কর্মকান্ডে অনিয়ম করে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হলেও কোন আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া গোপন সূত্রে জানা যায় যে, বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্ব ভাতা সহ সকল ধরনের ভাতা থেকে চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক বাবলাসহ তার সঙ্গীরা টাকা খাচ্ছেন। এমনকি ৫ বৎসরের মাটি কাটার কাজের মহিলা ও পুরুষদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

হাইরমারা ইউনিয়নের বীরকান্দি গ্রামের এক নারী উপকারভোগী জানান, সকালে এসেছেন চাল নেওয়ার জন্য। তারা কেউ ১০ কেজি চাল পাননি। চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা তাদের পছন্দের লোকদের পরিমানের চেয়ে বেশি চাল দিয়েছেন। এতে তাদের ভাগে চাল কম পড়েছে।
এ বিষয়ে সংবাদকর্মী রুদ্রকে হাইরমারা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক, চাউলের বিষয়টায় কিছুটা অনিয়ম হতে পারে কিন্তু অত্যাধিক না। তবে আমার বিরুদ্ধে কিছু লোক ষড়যন্ত্র করছে। সাংবাদিকদের ২ হাজার টাকা দিলেই তাদের মুখ বন্ধ রাখা যায়। তাই এগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে।

এদিকে হাইরমারা ইউনিয়নের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরেও অনেক অনৈতিক কর্মকান্ড চলে। অফিস চলাকালীন সময়ের বাইরের অনেক রাত পর্যন্ত এই ইউনিয়নে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। তিনি আরো বলেন, এই পরিষদের অনিয়ম যে কোন সময় প্রশাসনিক লোক আসলে সহজেই ধরতে পারবে। চেয়ারম্যান সরাসরি এই অনৈতিক কাজগুলোতে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক বাবলার বিরুদ্ধে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য পেতে আগামী সংখ্যায় চোখ রাখুন।

সর্বশেষ নিউজ