৭, জুলাই, ২০২২, বৃহস্পতিবার

নরসিংদীর শিবপুরে লকডাউনে সরকারি নীতি মানছেন না এ.পি ফিড কারখানার মালিক

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার যশোর ইউনিয়নের চৈতন্য বাস ষ্ট্যান্ডের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এ.পি ফিড নামক কারাখানর মালিক ৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা থাকলেও মানছেন না কোনো সরকারি বিধি নিষেধ। বন্ধ রয়েছে সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্প কারখানা, গার্মেন্টসসহ সকল প্রতিষ্ঠান। কিন্তু কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই কাজ করছেন এই প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক। তাছাড়া শ্রমিকদের মুখে কোন মাস্ক ছিল না। এ অবস্থায় এই প্রতিষ্ঠানে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে পুরোদমে কাজ চলছে। এই এ.পি ফিড নামক প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই নেই। মাঝে-মধ্যে দুএকজনের মুখে মাস্ক পরতে দেখা গেলেও অধিকাংশ শ্রমিক মাস্ক ছাড়াই কাজকর্ম করছেন।
নরসিংদী জেলার করোনা বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ.পি ফিড প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা অনেক ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন। শ্রমিকদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করানোর কথা বললেও কর্তৃপক্ষ কোনো তোয়াক্কা করছেন না। কারণ এই প্রতিষ্ঠানের মালিক পক্ষ নিজেই সচেতন নয় বলে জানা গেছে। ফলে কার করোনা আছে আর কার করোনা নেই সেটি বোঝা যাচ্ছে না।

এদিকে আজ ২৭ শে জুলাই রোজ মঙ্গলবার এ.পি ফিড কারখানায় সংবাদকর্মী সাইফুল ইসলাম রুদ্র সরেজমিনে গেলে কারখানার দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটির প্রধান বলেন, সরকারের আইন মানতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কারণ সরকার তো আর আমাদের খাওয়াচ্ছে, পড়াচ্ছে না। আমরা এই লকডাউন মানি না।
অপরদিকে এ.পি ফিড কারখানার ম্যানেজার সংবাদকর্মী রুদ্রকে বলেন, কারখানাটি বন্ধ রাখলে অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। এতে করে তারা পরিবার নিয়ে অনেক অসহায় হয়ে যাবে। আর আমরাওতো বসিয়ে রেখে শ্রমিককে বেতন দিতে পারবো না। তাই মানুষের অসহায়ের কথা ভেবে এই কঠোর লকডাউনেও কারখানা চালিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এভাবে ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকরা একত্রে কাজ করলে এর ফলাফল ভয়াভহ রূপ ধারণ করতে পারে। কারণ বর্তমানে করোনা রোগীর সংখ্যা দিন দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। তাই অতি দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই এ.পি ফিড কারখানার আরো অনৈতিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেতে আগামী সংখ্যায় চোখ রাখুন।

সর্বশেষ নিউজ