২৪, জুন, ২০২১, বৃহস্পতিবার

নরসিংদী রায়পুরা ও বেলাব উপজেলার দেওনারচর গ্রামের অধিকাংশ পরিবার সবজি হিসেবে লাউ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদী রায়পুরা ও বেলাব উপজেলার দেওনারচর গ্রামের অধিকাংশ পরিবার সবজি হিসেবে লাউ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। এই গ্রামের কৃষকেরা আশা করছেন, এবার এই গ্রাম থেকে তাঁরা প্রায় লক্ষাধিক টাকার লাউ বিক্রি করতে পারবেন।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, একসময় বেলাব উপজেলার দেওনারচর গ্রামে দারিদ্রতা বিরাজ করছিল কৃষকদের মাঝে। এখন অভাব নেই। নেই কষ্ট। সেই অভাব দূর হয়েছে। সবজি চাষ করে তাঁরা আয় করছেন টাকা। প্রতিটি পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা। সেই সঙ্গে পাল্টে গেছে পুরো গ্রামের দৃশ্যপট।

চারদিকে এখন সবজির খেত। কোনো জমিও পরিত্যক্ত হিসেবে পড়ে থাকছে না। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, দেওনারচর গ্রামের প্রায় তিনশ পরিবারের মধ্যে এক শ পরিবার তাদের নিজের জমিতে লাউ চাষ করেছে। খেত পরিচর্যায় অনেক কৃষককে ব্যস্ত থাকতেও দেখা যায়। এ সময় কয়েকজন কৃষক বলেন, গ্রামের শতাধিক পরিবার প্রায় এক হাজার শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করেছে।

সর্বনিম্ন ২ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ জমিতে প্রতিটি পরিবার লাউ আবাদ করেছে। মে মাসের ১ম সপ্তাহ থেকে আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এই চার মাস খেত থেকে লাউ মিলবে। প্রতি শতাংশ জমিতে গত এক মাসে ইতিমধ্যে গড়ে ১০০টি লাউ উৎপন্ন হয়েছে।

এ অবস্থায় প্রতি শতাংশ জমিতে চার মাসে খেত থেকে লাউ মিলবে চার শতাধিক। এ হিসাবে এ বছর এই গ্রামে চার লাখের বেশি লাউ মিলবে। প্রতিটি লাউ খেত থেকে গড়ে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে চার লাখ লাউ থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকার লাউ বিক্রি হবে। এতে খরচ হবে ৫-৬ লাখ টাকা। মাদ্রসা শিক্ষক কাশেম আলী বলেন, এ বছর তিনি ১১ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে এক মাসে তিনি অনেক লাউ বিক্রিও করেছেন।

প্রতিটি লাউ খেত থেকে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কৃষক মোঃ নায়েব আলী প্রায় ১৫ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, এক মাস ধরে লাউ বিক্রি করছেন। আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত লাউ বিক্রি হবে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ফলন বেশ ভালো। লাউ চাষ লাভবান হওয়ায় এ গ্রামের অনেকের অভাব দূর হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে ছিল ও এই উপজেলার কৃষকরা তাদের ফসলী জমিতে সবজি আবাদ করতে বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছি আমরা। দেওনারচর গ্রামের লাউ প্রতিবছরই বিভিন্ন জেলার চাহিদা মিটিয়ে আসছে।

সর্বশেষ নিউজ