২৮, অক্টোবর, ২০২১, বৃহস্পতিবার

নাইজেরিয়ায় কারাগার থেকে পালিয়েছে ১৮০০ বন্দি

নাইজেরিয়ার একটি কারাগার থেকে ১৮শ’র বেশি বন্দি পালিয়ে গেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে বন্দুকধারীরা হামলা চালানোর পর এই ঘটনা ঘটেছে। খবর বিবিসির। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ওয়েরি শহরের কারাগারে হামলার সময় বিস্ফোরক ব্যবহার করে সেখানকার প্রশাসনিক ব্লক উড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এরপর তারা কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহরে অবস্থিত ওই কারাগারে প্রবেশের জন্য বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে হামলাকারীরা। পালিয়ে যাওয়ার পর ৬ বন্দি আবার ফিরে এসেছে। অপরদিকে ৩৫ জন সুযোগ পেয়েও পালায়নি। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে পুলিশ। আদিবাসী বিয়াফ্রার লোকজন এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ওই গোষ্ঠী কোনো ধরনের হামলার কথা অস্বীকার করেছে।

নাইজেরিয়ার সংশোধনমূলক পরিষেবা জানিয়েছে, ইমো রাজ্য থেকে ১ হাজার ৮৪৪ জনের বেশি বন্দি পালিয়ে গেছে। সোমবার ওভেরি কাস্টোডিয়াল সেন্টারে ভারী অস্ত্রধারীরা হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা কয়েকটি বাস এবং পিকআপ ট্রাকে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামলাকারীরা রকেট চালিত গ্রেনেড, মেশিন গান, বিস্ফোরক এবং রাইফেল নিয়ে হামলা চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ বুহারি এই হামলাকে সন্ত্রাসবাদ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, নৈরাজ্যবাদীরা এই হামলা চালিয়েছে। হামলাকারী এবং পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের আটক করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে আদিবাসী বিয়াফ্রা গোষ্ঠীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সোমবারের হামলার জন্য তাদের দায়ী করা হলেও তারা এর সঙ্গে জড়িত নয়। এই অভিযোগ মিথ্যা। গত জানুয়ারি থেকেই দক্ষিণ-পূর্ব নাইজেরিয়ার বিভিন্ন পুলিশ স্টেশন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে হামলা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক চুরি করা হয়েছে। তবে কোনো গোষ্ঠী এসব হামলার দায় স্বীকার করেনি। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বুহারি এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলে অভিহিত করেছেন। হামলাকারীদের ‘নৈরাজ্যবাদী’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। এসময় যত দ্রুত সম্ভব হামলাকারী ও পলাতক বন্দীদের আটক করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দেন বুহারি।

সর্বশেষ নিউজ